উদ্দীপকে সোনা ও রূপার অনুমান কি একই প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: না, উদ্দীপকে সোনা ও রূপার অনুমান একই প্রকৃতির নয়। কারণ সোনার অনুমান হলো অসাধু সাদৃশ্যানুমান কিন্তু রূপার অনুমানটি সাধু সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত। যে সাদৃশ্যানুমান আরোহবাক্যের মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাদৃশ্য বা মিল অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। অর্থাৎ, এ সাদৃশ্যনুমান কার্যকারণ নীতির মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে কার্যকর নীতির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাই সাধু সাদৃশ্যানুমানের বৈধতা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। অন্যদিকে, যে সাদৃশ্যানুমানে অমৌলিক, গুরুত্বহীন ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। এ অনুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো বাহ্যিক, গুরুত্বহীন ও অজ্ঞাত হওয়ার অনুপস্থিতি বা যুক্তিসংঘর্ষ ঘটে। এ কারণে এটি একটি লৌকিক প্রক্রিয়া। উদ্দীপকে সোনা বললো, মানুষের মতোই গাছপালার জন্ম, বুদ্ধি, ক্ষয় ও লয় (মৃত্যু) আছে। মানুষের বুদ্ধি আছে। সুতরাং গাছপালারও বুদ্ধি আছে। সোনার এরূপ সিদ্ধান্ত অমৌলিক, গুরুত্বহীন ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অনুমিত। এ কারণে এটি অসাধু সাদৃশ্যানুমান। এরূপ অনুমান সামাজিক কুসংস্কার, লোকবিশ্বাস ও কাল্পনিক চিন্তাধারার ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি বা নিয়মানুবর্তিতার ক্ষেত্রে অগ্রাহ্য হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, উদ্দীপকে রূপা লক্ষ করল মানুষ ও উদ্ভিদের মধ্যে জন্ম, বৃদ্ধি, ক্ষয়, বংশ বিস্তার, খাদ্যগ্রহণ ইত্যাদি বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে। মানুষের প্রাণ আছে। সুতরাং উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। রূপা এখানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাদৃশ্য বা মিল অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ কারণে তার অনুমানটি সাধু সাদৃশ্যনুমানের দৃষ্টান্ত। এরূপ অনুমান কার্যকারণ নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সাধু সাদৃশ্যানুমান ও অসাধু সাদৃশ্যানুমান দুটি বিপরীতধর্মী অনুমান। যার দৃষ্টান্ত উদ্দীপকে সোনা ও রূপার অনুমান প্রতীয়মান। এ কারণে সোনা ও রূপার অনুমান একই প্রকৃতির নয়।
HSC Logic 2nd Paper Chapter 3 : আরোহের প্রকারভেদ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Logic 2nd Paper · Chapter 3 : আরোহের প্রকারভেদ · সৃজনশীল
উদ্দীপকে সোনা ও রূপার অনুমান কি একই প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
