প্রদত্ত উদ্দীপকে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের প্রাথমিক দ্রব্য ও শিল্পজাত দ্রব্যের রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয়ের কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে। ঐ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিচে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গতিধারার ওপর মন্তব্য করা হলো-
বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে দু'শ্রেণিভুক্ত দ্রব্য বিদেশ রপ্তানি করা হয়; যথা- প্রাথমিক দ্রব্য ও শিল্পজাত দ্রব্য। এর মধ্যে রপ্তানি বাণিজ্যে শিল্পজাত দ্রব্যের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য মতে, রপ্তানি বাণিজ্যে শিল্পজাত দ্রব্যের অবদান ৯০ শতাংশের বেশি।
ধীর গতি হলেও আমাদের রপ্তানি আয় ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে যেখানে মোট রপ্তানি হয়েছিল ২২৯২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭০২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। স্বল্পকালের ব্যবধানে এ বৃদ্ধি রপ্তানি বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের তথ্য থেকে জানা যায়, রপ্তানি বাণিজ্যে প্রাথমিক দ্রব্যের অবদান সময়ান্তরে তেমন একটা বাড়া-কমা না করলেও শিল্পজাত দ্রব্যের অবদান ক্রমশ বেড়েই চলেছে। প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, ২০১০- ১১ অর্থবছরে যেখানে শিল্পজাত দ্রব্যের রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২১৬১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৭১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শতকরা হিসেবে এ বৃদ্ধি হলো প্রায় ১৯ শতাংশ।
উদ্দীপকের তথ্য থেকে আরো জানা যায়, বাংলাদেশের প্রাথমিক দ্রব্যের রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ সালে বৃদ্ধি না পেয়ে বরং হ্রাস পায়। ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ সালে প্রাথমিক দ্রব্য থেকে রপ্তানি আয় হ্রাস পায় প্রায় ০.৪৫ শতাংশ।