HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
বাংলাদেশে বিংশ শতাব্দির শেষদিকেও রপ্তানি পণ্য বলতে হাতেগোনা কয়েকটি ছিল। কিন্তু বিংশ শতাব্দির শেষ দশকে বাংলাদেশে রফতানিক্ষেত্রে কিছু নতুন পণ্য যোগ হয়। তৈরি পোশাক এমনই একটি পণ্য। কাঁচামাল প্রাপ্তি, শ্রমিকের মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এটির ভূমিকা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য। যদি আমরা আইটেম সংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রম অসন্তোষ দূর এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে পারি তবে আমাদের তৈরি পোশাক বিশ্ব বাজারে ১ম স্থান দখল করবে।
Dhaka · 2017
ক
বিশ্বায়ন কী?
উত্তর
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্পদ, পুঁজি, প্রযুক্তি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি বিষয়াদি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলে গন্ডিবদ্ধ না রেখে তা সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বায়ন।
খ
"বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
কোনো দেশে বাণিজ্য শূন্য হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাণিজ্য অল্প পরিমাণে হলেও তা থেকে কিছুটা আয় হয়ে থাকে। এতে করে দেশের মূলধন ঘাটতি পূরণ হয়। কিন্তু একেবারে বাণিজ্য না হলে অল্প পরিমাণ আয়ও সম্ভব হয় না। তখন ঘাটতি মূলধন পূরণ না হয়ে বরং বৃদ্ধি পায়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কাঁচামাল প্রাপ্তি, শ্রমিকের মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শেষে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ আসত তৈরি পোশাক হতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন- সুতা, - বোতাম, লেবেল ইত্যাদি সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পরিবহন সমস্যা, মানসম্মত কর্মপরিবেশের অভাব এ শিল্প উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্বল্প মজুরি প্রদানের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়।
সুতরাং উপরিউক্ত সমস্যাদি দূর করার মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
ঘ
উদ্দীপক অনুসারে, তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তৈরি পোশাক। নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে বাংলাদেশের অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে তৈরি পোশাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে চার সহস্রাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালু রয়েছে এবং রপ্তানি আয়ের ৮০% আসে এ খাত হতে। তৈরি পোশাক খাত হতে ২০১৩-১৪ সালে আসে মোট রপ্তানির ৪১.২ এবং ২০১৪-১৫ সালে আসে ৪১.৪%) এ শিল্পের মাধ্যমে অশিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তৈরি পোশাক আমদানি করে। সস্তা ও সহজলভ্য শ্রমিক এ খাতের প্রধান সুবিধা।
অতএব, সরকারি সহায়তা পেলে এবং এ খাতের সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি দূর করতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্ব বাজারে ১ম স্থান অর্জন করবে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো
