Chapter 8 : আন্তর্জাতিক বানিজ্য Economics 2nd Paper

HSC Economics 2nd Paper এর Chapter 8 : আন্তর্জাতিক বানিজ্য অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১,০৯৯

প্রশ্ন

Economics 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশে বিংশ শতাব্দির শেষদিকেও রপ্তানি পণ্য বলতে হাতেগোনা কয়েকটি ছিল। কিন্তু বিংশ শতাব্দির শেষ দশকে বাংলাদেশে রফতানিক্ষেত্রে কিছু নতুন পণ্য যোগ হয়। তৈরি পোশাক এমনই একটি পণ্য। কাঁচামাল প্রাপ্তি, শ্রমিকের মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এটির ভূমিকা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য। যদি আমরা আইটেম সংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রম অসন্তোষ দূর এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে পারি তবে আমাদের তৈরি পোশাক বিশ্ব বাজারে ১ম স্থান দখল করবে।

Dhaka · 2017

ক
বিশ্বায়ন কী?

উত্তর

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্পদ, পুঁজি, প্রযুক্তি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি বিষয়াদি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলে গন্ডিবদ্ধ না রেখে তা সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বায়ন।
খ
"বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

কোনো দেশে বাণিজ্য শূন্য হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাণিজ্য অল্প পরিমাণে হলেও তা থেকে কিছুটা আয় হয়ে থাকে। এতে করে দেশের মূলধন ঘাটতি পূরণ হয়। কিন্তু একেবারে বাণিজ্য না হলে অল্প পরিমাণ আয়ও সম্ভব হয় না। তখন ঘাটতি মূলধন পূরণ না হয়ে বরং বৃদ্ধি পায়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কাঁচামাল প্রাপ্তি, শ্রমিকের মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শেষে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ আসত তৈরি পোশাক হতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন- সুতা, - বোতাম, লেবেল ইত্যাদি সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পরিবহন সমস্যা, মানসম্মত কর্মপরিবেশের অভাব এ শিল্প উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্বল্প মজুরি প্রদানের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়। সুতরাং উপরিউক্ত সমস্যাদি দূর করার মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
ঘ
উদ্দীপক অনুসারে, তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তৈরি পোশাক। নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে বাংলাদেশের অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে তৈরি পোশাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে চার সহস্রাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালু রয়েছে এবং রপ্তানি আয়ের ৮০% আসে এ খাত হতে। তৈরি পোশাক খাত হতে ২০১৩-১৪ সালে আসে মোট রপ্তানির ৪১.২ এবং ২০১৪-১৫ সালে আসে ৪১.৪%) এ শিল্পের মাধ্যমে অশিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তৈরি পোশাক আমদানি করে। সস্তা ও সহজলভ্য শ্রমিক এ খাতের প্রধান সুবিধা। অতএব, সরকারি সহায়তা পেলে এবং এ খাতের সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি দূর করতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্ব বাজারে ১ম স্থান অর্জন করবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশে বিংশ শতাব্দির শেষদিকেও রপ্তানি পণ্য বলতে হাতেগোনা কয়েকটি ছিল। কিন্তু বিংশ শতাব্দির শেষ দশকে বাংলাদেশে রফতানিক্ষেত্রে কিছু নতুন পণ্য যোগ হয়। তৈরি পোশাক এমনই একটি পণ্য। কাঁচামাল প্রাপ্তি, শ্রমিকের মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এটির ভূমিকা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য। যদি আমরা আইটেম সংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রম অসন্তোষ দূর এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে পারি তবে আমাদের তৈরি পোশাক বিশ্ব বাজারে ১ম স্থান দখল করবে।

Dhaka · 2017

ক
বিশ্বায়ন কী?

উত্তর

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্পদ, পুঁজি, প্রযুক্তি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি বিষয়াদি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলে গন্ডিবদ্ধ না রেখে তা সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বায়ন।
খ
"বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

কোনো দেশে বাণিজ্য শূন্য হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাণিজ্য অল্প পরিমাণে হলেও তা থেকে কিছুটা আয় হয়ে থাকে। এতে করে দেশের মূলধন ঘাটতি পূরণ হয়। কিন্তু একেবারে বাণিজ্য না হলে অল্প পরিমাণ আয়ও সম্ভব হয় না। তখন ঘাটতি মূলধন পূরণ না হয়ে বরং বৃদ্ধি পায়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কাঁচামাল প্রাপ্তি, শ্রমিকের মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শেষে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ আসত তৈরি পোশাক হতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন- সুতা, - বোতাম, লেবেল ইত্যাদি সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পরিবহন সমস্যা, মানসম্মত কর্মপরিবেশের অভাব এ শিল্প উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্বল্প মজুরি প্রদানের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়। সুতরাং উপরিউক্ত সমস্যাদি দূর করার মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
ঘ
উদ্দীপক অনুসারে, তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তৈরি পোশাক। নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে বাংলাদেশের অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে তৈরি পোশাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে চার সহস্রাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালু রয়েছে এবং রপ্তানি আয়ের ৮০% আসে এ খাত হতে। তৈরি পোশাক খাত হতে ২০১৩-১৪ সালে আসে মোট রপ্তানির ৪১.২ এবং ২০১৪-১৫ সালে আসে ৪১.৪%) এ শিল্পের মাধ্যমে অশিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তৈরি পোশাক আমদানি করে। সস্তা ও সহজলভ্য শ্রমিক এ খাতের প্রধান সুবিধা। অতএব, সরকারি সহায়তা পেলে এবং এ খাতের সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি দূর করতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্ব বাজারে ১ম স্থান অর্জন করবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশে বিংশ শতাব্দীর শেষদিকেও রপ্তানিপণ্য বলতে হাতেগোনা কয়েকটি ছিল। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে বাংলাদেশে রপ্তানিক্ষেত্রে কিছু নতুন পণ্য যুক্ত হয়। তৈরি পোশাক এমনই একটি পণ্য। কাঁচামাল প্রাপ্তি, শ্রমিকের মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এটির ভূমিকা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য। যদি আমরা আইটেম সংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রম অসন্তোষ দূর এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে পারি, তবে আমাদের তৈরি পোশাক বিশ্ব বাজারে ১ম স্থান দখল করবে।

Barisal · 2017

ক
বিশ্বায়ন কী?

উত্তর

কবিশ্বায়ন হচ্ছে মূলধনসহ পণ্য ও সেবার অবাধ প্রবাহের একটি সম্মিলিত ব্যবস্থা।
খ
'বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো।'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভিত্তি হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমবিভাগ ও ভৌগোলিক বিশেষীকরণ। তুলনামূলক ব্যয়নীতির ভিত্তিতে যে দেশ যে পণ্য উৎপাদনে আপেক্ষিক সুবিধা পায়, সে দেশ সেই পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করবে। আর, যে পণ্য উৎপাদনে আপেক্ষিক সুবিধা কম সেই পণ্য আমদানি করবে। এভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। আর বাণিজ্য না হলে বাধ্য হয়ে বেশি খরচে পণ্যটি উৎপাদন করতে হয়। এতে সম্পদের অপচয় হয়। তাই বলা যায়, একেবারে বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য হওয়া ভালো।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত রপ্তানি পণ্যটির সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত রপ্তানি পণ্যটি হলো তৈরি পোশাক। এই পণ্যটির সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. কাঁচামালের অভাব: তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত না হওয়ায় আমদানি করতে হয়। ফলে সময় মতো কাঁচামাল না পাওয়া ও বেশি দামে ক্রয় ইত্যাদির কারণে ব্যবসায়ীরা বিপাকের সম্মুখীন হন। ২. প্রতিকূল কর্মপরিবেশ: বাংলাদেশের অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে কাজের প্রতিকূল পরিবেশ লক্ষ করা যায়। যেমন- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্বীকৃত কর্মসময় অনুসরণ না করা ইত্যাদি। এর ফলে শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। ৩. শ্রমিক অসন্তোষ: এদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি তুলনামূলক অনেক কম হয়ে থাকে। এ জন্য শ্রমিকরা প্রায়ই বেতন বৃদ্ধি, কর্মসময় নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ধর্মঘট, ভাঙচুরে লিপ্ত থাকে, যা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তির ওপর আঘাত হানে। উপর্যুক্ত সমস্যা ছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্পে মূলধনের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনুন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।
ঘ
উদ্দীপক অনুসারে, তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

দ্রুত বিকাশমান শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কারণ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৫০ ভাগই এই খাত থেকে আসে। এই শিল্পের প্রতি যত্নশীল হলে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে। বাংলাদেশ হতে তৈরি পোশাক শিল্পের মাত্র ১০-১২টি আইটেম রপ্তানি করা হয়। এই আইটেমের সংখ্যা বাড়ানো হলে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে। আবার, কর্ম পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষ দূর করা গেলে শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নত হবে। এতে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। যেকোনো ধরনের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা খুব কার্যকর ভূমিকা রাখে। এদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রণোদনা ও উদার শিল্পনীতির মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি করা সম্ভব। তাছাড়া, সরকার সব সময় এখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে আগ্রহী, যা অধিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহায়ক। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পে প্রয়োজনীয় ঋণ সহজলভ্য হলে উদ্যোক্তারা বেশি উৎসাহী হবে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি বাড়বে। তাছাড়া বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে এই শিল্পের আরো প্রসার ঘটবে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প একটি সম্ভাবনাময় শিল্প।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশে বিংশ শতাব্দীর শেষদিকেও রপ্তানিপণ্য বলতে হাতেগোনা কয়েকটি ছিল। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে বাংলাদেশে রপ্তানিক্ষেত্রে কিছু নতুন পণ্য যুক্ত হয়। তৈরি পোশাক এমনই একটি পণ্য। কাঁচামাল প্রাপ্তি, শ্রমিকের মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এটির ভূমিকা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য। যদি আমরা আইটেম সংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রম অসন্তোষ দূর এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে পারি, তবে আমাদের তৈরি পোশাক বিশ্ব বাজারে ১ম স্থান দখল করবে।

Barisal · 2017

ক
বিশ্বায়ন কী?

উত্তর

কবিশ্বায়ন হচ্ছে মূলধনসহ পণ্য ও সেবার অবাধ প্রবাহের একটি সম্মিলিত ব্যবস্থা।
খ
'বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো।'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভিত্তি হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমবিভাগ ও ভৌগোলিক বিশেষীকরণ। তুলনামূলক ব্যয়নীতির ভিত্তিতে যে দেশ যে পণ্য উৎপাদনে আপেক্ষিক সুবিধা পায়, সে দেশ সেই পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করবে। আর, যে পণ্য উৎপাদনে আপেক্ষিক সুবিধা কম সেই পণ্য আমদানি করবে। এভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। আর বাণিজ্য না হলে বাধ্য হয়ে বেশি খরচে পণ্যটি উৎপাদন করতে হয়। এতে সম্পদের অপচয় হয়। তাই বলা যায়, একেবারে বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য হওয়া ভালো।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত রপ্তানি পণ্যটির সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত রপ্তানি পণ্যটি হলো তৈরি পোশাক। এই পণ্যটির সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. কাঁচামালের অভাব: তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত না হওয়ায় আমদানি করতে হয়। ফলে সময় মতো কাঁচামাল না পাওয়া ও বেশি দামে ক্রয় ইত্যাদির কারণে ব্যবসায়ীরা বিপাকের সম্মুখীন হন। ২. প্রতিকূল কর্মপরিবেশ: বাংলাদেশের অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে কাজের প্রতিকূল পরিবেশ লক্ষ করা যায়। যেমন- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্বীকৃত কর্মসময় অনুসরণ না করা ইত্যাদি। এর ফলে শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। ৩. শ্রমিক অসন্তোষ: এদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি তুলনামূলক অনেক কম হয়ে থাকে। এ জন্য শ্রমিকরা প্রায়ই বেতন বৃদ্ধি, কর্মসময় নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ধর্মঘট, ভাঙচুরে লিপ্ত থাকে, যা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তির ওপর আঘাত হানে। উপর্যুক্ত সমস্যা ছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্পে মূলধনের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনুন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।
ঘ
উদ্দীপক অনুসারে, তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

দ্রুত বিকাশমান শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কারণ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৫০ ভাগই এই খাত থেকে আসে। এই শিল্পের প্রতি যত্নশীল হলে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে। বাংলাদেশ হতে তৈরি পোশাক শিল্পের মাত্র ১০-১২টি আইটেম রপ্তানি করা হয়। এই আইটেমের সংখ্যা বাড়ানো হলে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে। আবার, কর্ম পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষ দূর করা গেলে শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নত হবে। এতে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। যেকোনো ধরনের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা খুব কার্যকর ভূমিকা রাখে। এদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রণোদনা ও উদার শিল্পনীতির মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি করা সম্ভব। তাছাড়া, সরকার সব সময় এখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে আগ্রহী, যা অধিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহায়ক। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পে প্রয়োজনীয় ঋণ সহজলভ্য হলে উদ্যোক্তারা বেশি উৎসাহী হবে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি বাড়বে। তাছাড়া বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে এই শিল্পের আরো প্রসার ঘটবে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প একটি সম্ভাবনাময় শিল্প।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Barisal · 2017

ক
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কী?

উত্তর

দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, দ্রব্য ও সেবার বিনিময়কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।
খ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয় কেন?

উত্তর

শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। শিক্ষা হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। সমাজে শিক্ষার প্রসার ঘটলে মানুষ নিজেকে সম্পদে পরিণত করার বিভিন্ন কৌশল ও সৃজনী ক্ষমতা অর্জন করে। মানুষ নিজেকে এবং রাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এভাবেই শিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।
গ
উদ্দীপকে ২নং সারিতে উল্লিখিত পণ্যটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের ২নং সারণিতে উল্লিখিত পণ্যটি হলো তৈরি পোশাক। বর্তমানে এটি হলো আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য। আমাদের দেশে পণ্যটির তথা পোশাক শিল্পের অর্থনৈতিক অনেক গুরুত্ব রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো: বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সর্ববৃহৎ খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পে পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি এবং প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিক নিয়োজিত আছে। তাছাড়া বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক দরিদ্র নারী এ সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারীরা এ শিল্পে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার সুযোগ পেয়েছে। পোশাক শিল্প দেশে একদল দক্ষ উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে তুলেছে। দেশে শিল্পবান্ধব পরিবেশ ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো থাকলে এ উদ্যোক্তা শ্রেণি দেশের শিল্পায়নের মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারবে। পোশাক শিল্পের প্রয়োজনে দেশে অন্যান্য সহায়ক শিল্প যেমন সুতা, কার্টন, পলিব্যাগ, লেভেল, গামটেপ, প্যাকিং ইত্যাদি শিল্প গড়ে উঠেছে। পোশাক শিল্পের উন্নয়নে সাথে সাথে এসব ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প (পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প) এর দ্রুত বিকাশ ঘটছে। পোশাক শিল্পের প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিকের জন্য বাড়তি খাদ্য, বস্ত্রসহ বিভিন্ন ভোগ্যদ্রব্যের বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দেশে অনেক ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী কারখানা গড়ে উঠে যেগুলো উৎপাদন, আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে সাহায্য করছে। তাছাড়া পোশাক শিল্পের জন্য বর্তমানে যে বিপুল পরিমাণ কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, ভবিষ্যতে তা দেশেই উৎপাদন করলে বস্ত্র শিল্পেরও উন্নয়ন ঘটবে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে ২নং সারণিতে উল্লিখিত পণ্যটির যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
ঘ
তুমি কি মনে কর, ৩নং সারিতে উল্লিখিত খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরো।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে ৩নং সারণিতে উল্লিখিত খাতটির হলো কুটিরশিল্পখাত। হস্তশিল্পজাত পণ্য এ খাতের উৎপাদিত পণ্য। এটি বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এমন ধারণার সপক্ষে নিচে কিছু যুক্তি তুলে ধরা হলো: বাংলাদেশের শিল্পখাতে কুটিরশিল্প একটি অত্যন্ত পরিচিত শিল্প। এ দেশের অর্থনীতিতে এ শিল্পে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কুটিরশিল্প স্বল্প মূলধন, সহজলভ্য কাঁচামাল ও সাধারণ যন্ত্রপাতি দ্বারা স্ব- উদ্যোগে গৃহেই প্রতিষ্ঠা করা যায়। এ দেশে তাই বেশিরভাগ আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কুটিরশিল্প স্থাপনের মাধ্যমেই করা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশ হলো বেশি শ্রমশক্তি ও স্বল্প পুঁজির দেশ। এ প্রেক্ষিতে এখানে স্বল্প পুঁজির বিনিয়োগ দ্বারা কুটিরশিল্প স্থাপন সুবিধাজনক। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো বেকার সমস্যা। দেশের বিপুল বেকার জনশক্তিকে কুটির শিল্পের মাধ্যমে তাদের ঘরে বসেই কাজের ব্যবস্থা করা যায়। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মহিলা পর্দানশীল বলে ঘরের বাইরে কাজ করতে ইচ্ছুক নয়। কুটিরশিল্প প্রসারের মাধ্যমে তাদের জন্য ঘরেই কাজের ব্যবস্থা করা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশের কৃষিখাতে প্রচুর লোক ছদ্মবেশী বেকার, মৌসুমি বেকার হিসেবে নিয়োজিত আছে। এসব বেকারকে সহজেই কুটির শিল্পে নিয়োগ করা যায়। আমাদের দেশে পল্লি অঞ্চলে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে; এগুলো কুটিরশিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া দেশের বৃহৎ শিল্পের অনেক পরিত্যক্ত উপজাত দ্রব্যাদির কুটিরশিল্পে ব্যবহৃত হতে পারে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ৩নং সারণিতে উল্লিখিত খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Barisal · 2017

ক
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কী?

উত্তর

দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, দ্রব্য ও সেবার বিনিময়কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।
খ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয় কেন?

উত্তর

শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। শিক্ষা হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। সমাজে শিক্ষার প্রসার ঘটলে মানুষ নিজেকে সম্পদে পরিণত করার বিভিন্ন কৌশল ও সৃজনী ক্ষমতা অর্জন করে। মানুষ নিজেকে এবং রাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এভাবেই শিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।
গ
উদ্দীপকে ২নং সারিতে উল্লিখিত পণ্যটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের ২নং সারণিতে উল্লিখিত পণ্যটি হলো তৈরি পোশাক। বর্তমানে এটি হলো আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য। আমাদের দেশে পণ্যটির তথা পোশাক শিল্পের অর্থনৈতিক অনেক গুরুত্ব রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো: বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সর্ববৃহৎ খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পে পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি এবং প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিক নিয়োজিত আছে। তাছাড়া বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক দরিদ্র নারী এ সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারীরা এ শিল্পে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার সুযোগ পেয়েছে। পোশাক শিল্প দেশে একদল দক্ষ উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে তুলেছে। দেশে শিল্পবান্ধব পরিবেশ ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো থাকলে এ উদ্যোক্তা শ্রেণি দেশের শিল্পায়নের মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারবে। পোশাক শিল্পের প্রয়োজনে দেশে অন্যান্য সহায়ক শিল্প যেমন সুতা, কার্টন, পলিব্যাগ, লেভেল, গামটেপ, প্যাকিং ইত্যাদি শিল্প গড়ে উঠেছে। পোশাক শিল্পের উন্নয়নে সাথে সাথে এসব ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প (পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প) এর দ্রুত বিকাশ ঘটছে। পোশাক শিল্পের প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিকের জন্য বাড়তি খাদ্য, বস্ত্রসহ বিভিন্ন ভোগ্যদ্রব্যের বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দেশে অনেক ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী কারখানা গড়ে উঠে যেগুলো উৎপাদন, আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে সাহায্য করছে। তাছাড়া পোশাক শিল্পের জন্য বর্তমানে যে বিপুল পরিমাণ কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, ভবিষ্যতে তা দেশেই উৎপাদন করলে বস্ত্র শিল্পেরও উন্নয়ন ঘটবে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে ২নং সারণিতে উল্লিখিত পণ্যটির যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
ঘ
তুমি কি মনে কর, ৩নং সারিতে উল্লিখিত খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরো।

উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে ৩নং সারণিতে উল্লিখিত খাতটির হলো কুটিরশিল্পখাত। হস্তশিল্পজাত পণ্য এ খাতের উৎপাদিত পণ্য। এটি বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এমন ধারণার সপক্ষে নিচে কিছু যুক্তি তুলে ধরা হলো: বাংলাদেশের শিল্পখাতে কুটিরশিল্প একটি অত্যন্ত পরিচিত শিল্প। এ দেশের অর্থনীতিতে এ শিল্পে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কুটিরশিল্প স্বল্প মূলধন, সহজলভ্য কাঁচামাল ও সাধারণ যন্ত্রপাতি দ্বারা স্ব- উদ্যোগে গৃহেই প্রতিষ্ঠা করা যায়। এ দেশে তাই বেশিরভাগ আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কুটিরশিল্প স্থাপনের মাধ্যমেই করা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশ হলো বেশি শ্রমশক্তি ও স্বল্প পুঁজির দেশ। এ প্রেক্ষিতে এখানে স্বল্প পুঁজির বিনিয়োগ দ্বারা কুটিরশিল্প স্থাপন সুবিধাজনক। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো বেকার সমস্যা। দেশের বিপুল বেকার জনশক্তিকে কুটির শিল্পের মাধ্যমে তাদের ঘরে বসেই কাজের ব্যবস্থা করা যায়। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মহিলা পর্দানশীল বলে ঘরের বাইরে কাজ করতে ইচ্ছুক নয়। কুটিরশিল্প প্রসারের মাধ্যমে তাদের জন্য ঘরেই কাজের ব্যবস্থা করা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশের কৃষিখাতে প্রচুর লোক ছদ্মবেশী বেকার, মৌসুমি বেকার হিসেবে নিয়োজিত আছে। এসব বেকারকে সহজেই কুটির শিল্পে নিয়োগ করা যায়। আমাদের দেশে পল্লি অঞ্চলে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে; এগুলো কুটিরশিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া দেশের বৃহৎ শিল্পের অনেক পরিত্যক্ত উপজাত দ্রব্যাদির কুটিরশিল্পে ব্যবহৃত হতে পারে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ৩নং সারণিতে উল্লিখিত খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো