P উদ্দীপকটিতে যে চক্র সংঘটিত হয় তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: P উদ্দীপকটিতে যে চক্র সংঘটিত হয় তা হলো হৃদচক্র। নিচে হৃদচক্র সংঘটন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো- ১. অলিন্দের ডায়াস্টোল : ডান ও বাম অলিন্দ একই সাথে প্রসারিত হয়। এই সময় ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা বন্ধ থাকে এবং ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরার মাধ্যমে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত ডান অলিন্দে এবং পালমোনারি শিরার মাধ্যমে O2 সমৃদ্ধ রক্ত বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। ০.৭ সেকেন্ডে অলিন্দদ্বয় রক্ত দ্বারা পূর্ণ হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অলিন্দের সিস্টোল শুরু হয়। ২. অলিন্দের সিস্টোল : এ ধাপের শুরুতে ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়। ডান ও বাম অলিন্দ একত্রে দ্রুত সংকুচিত হয় এবং এতে রক্ত নিলয়ে প্রবেশ করে। এ ধাপে সময় লাগে মাত্র ০.১ সেকেন্ড। ৩. নিলয়ের সিস্টোল : এ সময় নিলয় দুটি রক্তপূর্ণ অবস্থায় সংকুচিত হয় । ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা সজোরে বন্ধ হয় এবং সেমিলুনার কপাটিকা খুলে যায়। এতে লাব (lub) সদৃশ প্রথম শব্দের সৃষ্টি হয় । নিলয় মধ্যবর্তী চাপ বৃদ্ধি পায় এবং নিলয় থেকে রক্ত নিলয়ের বাইরে নির্গত হয়। ডান নিলয় থেকে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারী ধমনিতে এবং বাম নিলয় থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত অ্যাওর্টায় প্রবেশ করে। এ ধাপে সময় লাগে ০.৩ সেকেন্ড । ৪. নিলয়ের ডায়াস্টোল : নিলয়ের সিস্টোল শেষ হওয়ার সাথে সাথে এর ডায়াস্টোল শুরু হয়। এ সময় বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে অলিন্দ থেকে রক্ত নিলয়ে প্রবেশ করে। একই সাথে সেমিলুনার কপাটিকাগুলো সজোরে বন্ধ হয় এবং এ সময় ড্যাব সদৃশ শব্দের সৃষ্টি হয়। এ ধাপে সময় লাগে ০.৫ সেকেন্ড । এভাবেই হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন চাক্রিক গতিতে সম্পন্ন হয়।
HSC Biology 2nd Paper Chapter 4: রক্ত ও সংবহন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 2nd Paper · Chapter 4: রক্ত ও সংবহন · সৃজনশীল
P উদ্দীপকটিতে যে চক্র সংঘটিত হয় তা ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক

উত্তর
উত্তর
চিত্র: একটি আদর্শ কশেরুকাউত্তর
উত্তর
CO2 এর পরিবহন : শর্করা জারনের সময় কোষে CO2 সৃষ্টি হয়। এই CO2 দেহের জন্য ক্ষতিকর। কোষ থেকে CO2 রক্তে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে পৌছায় এবং ফুসফুস থেকে বায়ুতে মুক্ত হয়। নিচে বর্ণিত তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে CO2 রক্তে পরিবাহিত হয়।
i. ভৌত দ্রবণরূপে : কিছু পরিমাণ (৫%) CO2 রক্তরসের পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড গঠন করে।
H2O + CO2 → H2CO3 (কার্বনিক এসিড)
এ বিক্রিয়ায় কার্বোনিক অ্যানহাইড্রেজ এনজাইম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এখানে CO2 এর খুব সামান্য অংশই H2CO3 রূপে পরিবাহিত হয়।
ii. কার্বোমিনো যৌগরূপে : টিস্যুকোষ থেকে রক্তের প্লাজমায় আগত CO2 এর কিছু অংশ লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে। লোহিত কণিকার মধ্যে যে হিমোগ্লোবিন থাকে তার গ্লোবিন (প্রোটিন) অংশের অ্যামিনো গ্রুপের (- NH2) সাথে CO2 যুক্ত হয়ে কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে।
CO2-এর একাংশ প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কার্বামিনোপ্রোটিন গঠন করে।
PrNH2 + CO2 → PrNHCOOH (কার্বামিনো প্রোটিন)
iii. বাই কার্বোনেট যৌগরূপে : ৮৫% CO2 বাই কার্বোনেট যৌগরূপে রক্ত দ্বারা পরিবাহিত হয়। CO2 ব্যাপন প্রক্রিয়ায় লোহিত রক্ত কণিকায় প্রবেশ করে কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ নামক এনজাইমের উপস্থিতিতে পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বোনিক এসিড (H2CO3) সৃষ্টি করে। এই কার্বোনিক এসিডের অধিকাংশ ভেঙ্গে H+ ও HCO- আয়নে পরিণত হয়।
HCO3- রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় K+ এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পটাশিয়াম বাই কার্বোনেট (KHCO3) গঠন করে। কিছু HCO3- লোহিত রক্তকণিকা হতে বের হয়ে রক্তরসে চলে আসে এবং Na+ এর সাথে যুক্ত হয়ে সোডিয়াম বাই কার্বোনেট (NaHCO3) গঠন করে।
লোহিত রক্তকণিকায় : K+ + HCO3- → KHCO3
রক্তরসে : Na+ + HCO3- → NaHCO3
এভাবে সৃষ্ট KHCO3 ও NaHCO3 রক্ত দ্বারা পরিবাহিত হয়।