HSCBiology 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
মানবদেহের রক্তরসে নিউক্লিয়াসবিহীন, হিমোগ্লোবিন নামক শ্বাসরঞ্জকযুক্ত এক ধরনের রক্তকণিকা বিদ্যমান। এই শ্বাসরঞ্জক মানুষের শ্বসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক
লসিকা কি?
উত্তর
প্রধানত কৈশিক জালিকার ভেদ্য প্রাচীরের মাধ্যমে রক্তের যে তরল অংশ বের হয়ে শিরা ও ধমনীর জালক এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে দেহের প্রতিটি কোষকে সিক্ত রাখে তাকে লসিকা বলে।
খ
ফুসফুসের কাজ লেখ।
উত্তর
ফুসফুস হল প্রধান শ্বসন অঙ্গ। এর কাজ নিম্নরুপ-
ফুসফুস এর অ্যালভিওলাসে ব্যাপন প্রক্রিয়া শ্বসন গ্যাস O2 ও CO2 এর গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘট। এখানে ট্রাকিয়ার বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত থাকে । ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট সংশ্লেষণ হয়। এটি শ্বসন বর্জ্য নিষ্কাশন করে,দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, পানির সমতা রক্ষা করে, শব্দ সৃষ্টি করে। এসকল কাজ ফুসফুস করে থাকে।
গ
উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট রক্তকণিকার গঠন বর্ণনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের সংশ্লিষ্ট রক্তকণিকাটি হল লোহিত রক্তকণিকা বা এরিথ্রোসাইট। মানবদেহে তিন ধরনের রক্ত কণিকা বিদ্যমান। ১)লোহিত রক্তকণিকা, ২)শ্বেত রক্তকণিকা, ৩)অণুচক্রিকা। এর মধ্যে লোহিত রক্তকণিকা অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তকণিকা। এর গঠন নিম্নরুপ-
লোহিত রক্ত কণিকার রক্তরসে ভাসমান, গোল দ্বি- অবতল চাকতির মত। এরা নিউক্লিয়াসবিহীন কিন্তু অক্সিজেনবাহী হিমোগ্লোবিন যুক্ত লাল বর্ণের কণিকা। এদের গড় ব্যাস ৭.৩মাইক্রো মিটার, গড় স্থুলতা ২.২ মাইক্রো মিটার।কিনারা মধ্যাভাগ অপেক্ষা পাতলা। অস্থিমজ্জার স্টেম কোষ থেকে লোহিত রক্তকণিকা উদ্ভূত হয়। ভ্রুনদেহে এর সংখ্যা ৮০-৯০লাখ,শিশুদেহে ৬০-৭০ লাখ ,পূর্ণবয়স্ক পুরুষে ৫০-৫৪ লাখ এবং মহিলাদের দেহে ৪৪-৪৮ লাখ। রাসায়নিকভাবে লোহিত রক্তকণিকার ৬০-৭০% পানি এবং ৩০-৪০% কঠিন পদার্থ। কঠিন পদার্থের মধ্যে প্রায় ৯০% হিমোগ্লোবিন। অবশিষ্ট১০% প্রোটিন, ফসফোলিপিড, কোলেস্টেরল, অজৈব লবণ, পটাশিয়াম ইত্যাদি। প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে প্রায় ১৬ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে। এভাবে লোহিত রক্তকনিকা গঠিত হয়।
ঘ
উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি হলো এই শ্বাসরঞ্জক অর্থাৎ হিমোগ্লোবিন মানুষের শ্বসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে -যা যথার্থ।
মানুষের লোহিত রক্তকণিকার একটি অন্যতম উপাদান হলো হিমোগ্লোবিন। হিমোগ্লোবিন একটি শ্বাস রঞ্জক যা মেরুদন্ডী প্রাণীর লোহিত রক্ত কণিকা এবং অনেক অমেরুদন্ডী প্রাণীর রক্তরসে বিস্তৃত লালবর্ণের প্রোটিন ধর্মী অক্সিজেনবাহী শ্বাসরঞ্জক।
লোহিত রক্ত কণিকার প্রধান প্রোটিন হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এর কারণেই মূলত রক্ত লাল দেখায়। এটি শ্বসন গ্যাস অক্সিজেন পরিবহনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে। হিমোগ্লোবিন চারটি একক নিয়ে গঠিত একটি গোল অনু যার প্রতিটি একক পলিপেপটাইড জাতীয় প্রোটিন গ্লোবিন এবং লৌহঘটিত হিম নিয়ে গঠিত। এদের অনুপাত ১:২৫। হিমের ৩৩.৩৩%লৌহ (Fe)। একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির সমগ্র রক্তে মাত্র ৪-৫ গ্রাম লৌহ থাকে। হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ -
১)অক্সিজেন পরিবহন : শ্বসন সময় অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়া ফুসফুস থেকে রক্তে প্রবেশ করে। রক্তের সমস্ত অক্সিজেন মুক্ত অবস্থায় থাকে না। এর বড় একটি অংশ লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামে অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। এর গঠন প্লাজমায় অক্সিজেনের পরিমাণ এর উপর নির্ভরশীল।
২)কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন : CO2 হিমোগ্লোবিনের সাথে বিক্রিয়া করে কারবামিনো হিমোগ্লোবিন নামক অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। কারবামিনো হিমোগ্লোবিন সমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃদপিণ্ড হয়ে পরিশোধের জন্য ফুসফুসে যায়। দেহের রক্ত পরিবহনের সময় কিছু পরিমাণ অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ত রস থেকে স্বল্প অক্সিজেনযুক্ত টিস্যুরসে রক্ত চলে যায়। এতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং হিমোগ্লোবিন তখন তার সাথে যুক্ত অক্সিজেন ছাড়তে শুরু করে। এভাবে অক্সিজেন প্রথমে রক্তরসে এবং পরে টিস্যুরসে চলে যায়। এভাবে হিমোগ্লোবিন গুরুত্বপূর্ণ শ্বসনে ভূমিকা পালন করে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

