উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো মানব হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন তথা হৃদস্পন্দন চক্রাকার গতিতে সম্পন্ন হয় যাকে হৃদচক্র বলে। মানুষের হৃৎপিণ্ডের হৃদচক্র চারটি ধাপে সংঘটিত হয়। নিচে এই চক্রাকার প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করা হলো-
১. অলিন্দের ডায়াস্টোল: ডান ও বাম অলিন্দ একই সাথে প্রসারিত হয়। এই সময় ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা বন্ধ থাকে এবং ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরার মাধ্যমে CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত ডান অলিন্দে এবং পালমোনারি শিরার মাধ্যমে O₂ সমৃদ্ধ রক্ত বার্ম অলিন্দে প্রবেশ করে। ০.৭ সেকেন্ডে অলিন্দদ্বয় রক্ত দ্বারা পূর্ণ হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অলিন্দের সিস্টোল শুরু হয়।
২. অলিন্দের সিস্টোল: এ ধাপের শুরুতে ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়। ডান ও বাম অলিন্দ একত্রে দ্রুত সংকুচিত হয় এবং এতে রক্ত নিলয়ে প্রবেশ করে। এ ধাপে সময় লাগে মাত্র ০.১ সেকেন্ড।
৩. নিলয়ের সিস্টোল: এ সময় নিলয় দুটি রক্তপূর্ণ অবস্থায় সংকুচিত হয়। ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা সজোরে বন্ধ হয় এবং সেমিলুনার কপাটিকা খুলে যায়। এতে লাব (lub) সদৃশ প্রথম শব্দের সৃষ্টি হয়। নিলয় মধ্যবর্তী চাপ বৃদ্ধি পায় এবং নিলয় থেকে রক্ত নিলয়ের বাইরে নির্গত হয়। ডান নিলয় থেকে CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারী ধমনিতে এবং বাম নিলয় থেকে O₂ সমৃদ্ধ রক্ত অ্যাওর্টায় প্রবেশ করে। এ ধাপে সময় লাগে ০.৩ সেকেন্ড।
৪. নিলয়ের ডায়াস্টোল: নিলয়ের সিস্টোল শেষ হওয়ার সাথে সাথে এর ডায়াস্টোল শুরু হয়। এ সময় বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে অলিন্দ থেকে রক্ত নিলয়ে প্রবেশ করে। একই সাথে সেমিলুনার কপাটিকাগুলো সজোরে বন্ধ হয় এবং এ সময় ড্যাব সদৃশ শব্দের সৃষ্টি হয়। এ ধাপে সময় লাগে ০.৫ সেকেন্ড। এভাবেই হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন চাক্লিক গতিতে সম্পন্ন হয়।