উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছের শিরাতন্ত্রের বর্ণনা দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি হলো রুইমাছ। নিচে এর শিরাতন্ত্রের বর্ণনা দেওয়া হলো- রুইমাছের শিরাতন্ত্র প্রধানত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত (অক্সিজেনবিহীন) রক্ত সংগ্রহ করে হৃৎপিণ্ডের সাইনাস ভেনোসাসে নিয়ে আসে। রুইমাছের শিরাতন্ত্রকে প্রধান দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: ১. সিস্টেমিক শিরাতন্ত্র এবং ২. পোর্টাল শিরাতন্ত্র। যেসব শিরার মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ বা তন্ত্র থেকে রক্ত সরাসরি হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে, তাদের সমন্বয়ে সিস্টেমিক শিরাতন্ত্র গঠিত হয়। একজোড়া সম্মুখ কার্ডিনাল শিরা, একজোড়া জুগুলার শিরা ও একজোড়া পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরা নিয়ে রুই মাছের সিস্টেমিক শিরাতন্ত্রের প্রধান অংশ গঠিত। শরীরের সম্মুখ অংশ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে সম্মুখ কার্ডিনাল ও জুগুলার শিরা সেপাশের ডাক্টাস ক্যুভেইরিতে উন্মুক্ত হয়। দেহের পশ্চাৎভাগ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরাও ডাক্টাস ক্যুভেইরিতে উন্মুক্ত হয় এবং উভয় ডাক্টাস ক্যুভেইরি হৃৎপিণ্ডের সাইনাস ভেনোসাসে যুক্ত হয়। এছাড়া বক্ষ ও শ্রোণি পাখনা থেকে সাবক্ল্যাভিয়ান শিরা রক্ত সংগ্রহ করে ডাক্টাস ক্যুভেইরির মাধ্যমে সাইনাস ভেনোসাসে প্রেরণ করে। অন্যদিকে, কৈশিকনালিকা থেকে উৎপন্ন হয়ে হৃৎপিণ্ডে যাওয়ার পথে যেসব শিরা অন্য কোনো অঙ্গে প্রবেশ করে আবার কৈশিকনালিতে পরিণত হয়, সেগুলোকে পোর্টাল শিরা বলে। রুই মাছের হেপাটিক ও রেনাল-এই দুই ধরনের পোর্টালতন্ত্র রয়েছে। হেপাটিক পোর্টাল শিরা পরিপাকতন্ত্র থেকে রক্ত সংগ্রহ করে যকৃতে প্রবেশ করে রক্তজালক সৃষ্টি করে এবং পরে যকৃৎশিরা সরাসরি সাইনাস ভেনোসাসে উন্মুক্ত হয়। অপরদিকে, দেহের লেজঅঞ্চল থেকে কডাল শিরা দেহকাণ্ডে প্রবেশ করে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। এর ডান শাখাটি ডান পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরা হিসেবে সম্মুখে অগ্রসর হয় এবং বাম শাখাটি বৃক্কে প্রবেশ করে বিভক্ত হয়ে জালিকা সৃষ্টি করে, যাকে রেনাল পোর্টাল শিরা বলে। বৃক্ক থেকে এই রক্ত পরে বাম পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরা দিয়ে সংগৃহীত হয়ে ডাক্টাস ক্যুভেইরির মাধ্যমে সাইনাস ভেনোসাসে পৌঁছায়।
HSC Biology 2nd Paper Chapter 2: প্রাণীর পরিচিতি CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 2nd Paper · Chapter 2: প্রাণীর পরিচিতি · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছের শিরাতন্ত্রের বর্ণনা দাও।
উদ্দীপক

উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
