উদ্দীপকে চিহ্নিত 'খ' ও 'গ' জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলটি ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু এবং 'গ' অঞ্চলটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে নির্দেশ করছে। এই দুই ধরনের জলবায়ুর মধ্যে প্রধান পার্থক্য দেখা যায় বৃষ্টিপাতের ঋতু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে। i. ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে এবং যেসব দেশের উপর দিয়ে এ বায়ু প্রবাহিত হয় সেসব দেশের জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু বলে। অন্যদিকে, মহাদেশগুলোর পশ্চিমাংশে ৩০° থেকে ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে যে জলবায়ু দেখতে পাওয়া যায় তাকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। ii. মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে শুষ্ক অয়ন বায়ু এবং শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়। iii. মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল বৃষ্টিহীন। অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিহীন এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল। iv. মৌসুমি জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ু গ্রীষ্মকালে জল হতে স্থলভাগের-দিকে এবং শীতকালে স্থল হতে জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অয়ন বায়ু স্থল থেকে জলভাগের দিকে এবং শীতকালে পশ্চিমা বায়ু জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। v. মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের অধিক থাকে। অপরদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। vi. মৌসুমি অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১২৫ থেকে ২০৩ সেন্টিমিটার এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বার্ষিক ২৫ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। সুতরাং বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় জলবায়ু অঞ্চলে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ দু'অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বেশিরভাগই বৈসাদৃশ্যতা বিরাজ করে। অর্থাৎ দু'অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বৈসাদৃশ্যতা পরিলক্ষিত হয়।
HSC Geography 1st Paper Chapter 6 : জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 6 : জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন · সৃজনশীল
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'খ' ও 'গ' জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক

উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
