উদ্দীপকের ২য় বাক্যের আলোকে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের ২য় বাক্যে বলা হয়েছে, "কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বিবর্তনের স্বপক্ষে তাত্ত্বিক প্রমাণসমূহ সঠিক বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন"। এই বক্তব্যের আলোকে বিবর্তনের প্রধান তাত্ত্বিক প্রমাণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ: বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গের গঠন পরীক্ষা করলে বিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ পাওয়া যায়। যেমন- মানুষের হাত, পাখির ডানা এবং তিমির ফ্লিপার দেখতে আলাদা হলেও এদের হাড়ের মৌলিক গঠন (পেনটাড্যাকটাইল লিম্ব) একই। একে সমসংস্থ অঙ্গ বলা হয়, যা প্রমাণ করে এরা সবাই একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ভ্রূণতাত্ত্বিক প্রমাণ: মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থা প্রায় একই রকম। প্রত্যেকের ভ্রূণেই এক পর্যায়ে ফুলকা রন্ধ্র ও লেজ সদৃশ অংশ দেখা যায়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, উচ্চতর প্রাণীরা বিবর্তনের মাধ্যমে মৎস্যজাতীয় পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে। জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ: শিলাস্তরে সংরক্ষিত প্রাচীন জীবের দেহাবশেষ বা জীবাশ্ম বিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ। যেমন-'আর্কিওপটেরিক্স' নামক জীবাশ্মটি সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে সরীসৃপ থেকেই পাখির বিবর্তন ঘটেছে। নিষ্ক্রিয় অঙ্গের প্রমাণ: প্রাণিদেহে এমন কিছু অঙ্গ থাকে যা বর্তমানে অকেজো, কিন্তু পূর্বপুরুষের দেহে সচল ছিল। মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স বা কানের পেশি এর অন্যতম উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে পরিবেশের প্রয়োজনে অব্যবহারের ফলে এই অঙ্গগুলো ক্ষুদ্র ও অকেজো হয়ে গেছে। উপরোক্ত তাত্ত্বিক প্রমাণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যদিও বিবর্তনের প্রতিটি ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়, তবুও অঙ্গসংস্থান, ভ্রূণতত্ত্ব এবং জীবাশ্ম বিজ্ঞানের এই তথ্যগুলো বিবর্তনের ধারণাকে বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি দান করে। তাই উদ্দীপকের দাবি অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা বিবর্তনের এই প্রমাণগুলোকে বিবর্তনের সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জোরালো ও যথার্থ বলে মনে করেন।
HSC Biology 2nd Paper Chapter 11: জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 2nd Paper · Chapter 11: জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন · সৃজনশীল
উদ্দীপকের ২য় বাক্যের আলোকে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
