উদ্দীপকের দ্বিতীয় রন্ধ্রটির খোলা ও বন্ধের কৌশল pH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় রন্ধ্রটি হলো পত্ররন্ধ্র। পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। পত্ররন্ধ্র অবস্থিত দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির রক্ষীকোষ পত্ররন্ধ্র বন্ধ ও খোলা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধের কৌশল সম্পর্কে বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মতবাদ দিয়েছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞানী স্যায়েরির মতবাদ উল্লেখযোগ্য। তার মতে পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার ক্রিয়াকৌশল pH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতবাদ হলো বিজ্ঞানী স্যায়েরির (Sayre) মতবাদ। তার মতে শ্বেতসার ও চিনির অন্তঃপরিবর্তনটি কোষরসের pH এর জন্য ঘটে থাকে। কোষরসের pH উঠানামাই পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। উচ্চ pH (৭ এর কাছাকাছি) পত্ররন্ধ্র-খুলতে সাহায্য করে এবং কম pH (৫ এর কাছাকাছি) পত্ররন্ধ্র বন্ধ হতে সাহায্য করে। রাত্রিকালে আলো না থাকলে সালোকংসশ্লেষণ বন্ধ থাকে কিন্তু শ্বসন চলতে থাকে। শ্বসনের ফলে সৃষ্ট [গণিত] রক্ষীকোষের কোষরসে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক এসিড উৎপন্ন হওয়ায় pH কমে যায়। এ অবস্থায় (PH5) ফসফোরাইলেজ এনজাইম দ্রবণীয় গ্লুকোজ-১ ফসফেটকে অজৈব ফসফেট এবং অদ্রবণীয় শ্বেতসারে পরিণত করে। ফলে পানির বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে এবং রক্ষীকোষদ্বয় স্ফীতি হারিয়ে ফেলে, এর ফলে পত্ররন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলায় আলোকের উপস্থিতিতে রক্ষীকোষদ্বয়ের সালোকসংশ্লেষণ আরম্ভ হয়। ফলে কোষে দ্রবীভূত [গণিত] ব্যবহৃত হয়ে যায় এবং কোষরস আর এসিডিক থাকে না। ফলে pH বেড়ে যায়। কোষরসের অবস্থা যখন pH, হয় তখন উপর্যুক্ত ফসফোরাইলেজ এনজাইম অজৈব ফসফেট ও শ্বেতসারকে দ্রবণীয় গ্লুকোজ-১ ফসফেটে পরিণত করে। ফলে অভিস্রবণিক চাপ বেড়ে যায়। আন্তঃঅভিস্রবণিক প্রক্রিয়ায় পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে রক্ষীকোষে পানির প্রবেশ ঘটে এবং রক্ষীকোষ স্ফীত হয়ে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
HSC Biology 1st Paper Chapter 9 : উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 9 : উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব · সৃজনশীল
উদ্দীপকের দ্বিতীয় রন্ধ্রটির খোলা ও বন্ধের কৌশল pH দ্বারা নিয়ন্ত্র…
উদ্দীপক
Comilla · 2022
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর