HSCBiology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
কচুগাছের পাতার কিনারায় পানির উপস্থিতি দেখে ছাত্র, শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে শিক্ষক বললেন, “ইহা এক ধরনের রন্দ্রের কাজ। আরও এক ধরনের বস্তু আছে, যা দিয়ে বাষ্পাকারে পানি নির্গত হয়।
ক
বুলিফর্ম কোষ কাকে বলে?
উত্তর
বুলিফর্ম কোষ হলো বৃহদাকৃতির ত্বকীয় কোষ যেগুলো এপিডার্মিসের কোষ হতে রোম বা ট্রাইকোম নামক বিভিন্ন প্রকার উপাঙ্গ উদ্গত হয়।
খ
ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ বলতে কী বুঝ?
উত্তর
উদ্ভিদ দেহের অন্তঃত্বকের কোষগুলোর ভেতরের প্রাচীর লিগনিন ও সুবেরিন গঠিত ফিতার মতো আস্তরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে। এ ফিতাকে ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ বলে। এর আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ক্যাসপেরির নাম অনুসারে একে ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের শেষ অংশে নির্দেশিত বস্তুটির গঠন চিত্রসহ বর্ণনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের শেষ অংশে নির্দেশিত রন্ধ্রটি হলো পত্ররন্ধ্র ।
পত্ররন্ধ্র পাতার উপরিতলে অবস্থিত দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির রক্ষীকোষ এবং এদের দিয়ে বেষ্টিত রষ্ট্র নিয়ে গঠিত। পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষে একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস, বহু ক্লোরোপ্লাস্ট ও ঘন সাইটোপ্লাজম থাকে। রক্ষীকোষে প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এটি খাদ্য তৈরি করে।
রক্ষীকোষের চারদিকে সহকারি কোষ থাকে। স্টোম্যাটার নিচে একটি বড় বায়ুকুঠুরী থাকে। অধিকাংশ উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র সকাল ১০- ১১টা এবং বিকাল ২-৩টায় পূর্ণ খোলা থাকে, অন্যান্য সময় আংশিক খোলা থাকে এবং রাত্রিতে বন্ধ থাকে।


ঘ
উদ্ভিদের জৈবনিক কাজে উদ্দীপকে উল্লিখিত বস্তু দুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম রন্ধ্রটি পানি-পত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড এবং দ্বিতীয়টি পত্ররন্ধ্র । উদ্ভিদের জৈবনিক কাজে হাইডাথোড ও পত্ররন্ধ্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
পানি-পত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড : পানি-পত্ররন্ধ্র এক বিশেষ ধরনের পানি নির্মোচন অঙ্গ। ঘাস, কচু, টমেটো ইত্যাদি গাছের পাতার কিনারায় প্রচণ্ড গরমের দিনে পানির ফোঁটার সারি দেখে এ অঙ্গের অবস্থান জানা যায়। হাইডাথোড চাপে পানি ট্রাকিডের শেষপ্রান্ত দিয়ে এপিথেলিয়ামের মাধ্যমে বিন্দু আকারে রন্ধ্রপথে জমা হয়। হাইডাথোড দিয়ে তরল পানি বের হয়ে যাওয়াকে নিদ্রাবণ বা পানি নির্গমন বা গাটেশন বলে । এটি উদ্ভিদকে অবাঞ্চিত দ্রবণ নিষ্পত্তি করতে সাহায্য করে। এটি উদ্ভিদের পুষ্টির অর্জন উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি উদ্ভিদ দেহের সঠিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
পত্ররন্ধ্র -
(i) পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন চলাকালীন সময়ে উদ্ভিদ অঙ্গ ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে।
(ii) উদ্ভিদদেহ থেকে অতিরিক্ত পানি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বাষ্পাকারে বের করে দেয়া পত্ররন্ধ্রের প্রধান কাজ
পরিবেশ শীতল থাকে। এতে অতি তাপের ক্ষতি থেকে উদ্ভিদাঙ্গ রক্ষা পায়।
(iii) পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
(iv) প্রস্বেদনের সময় পানি জলীয় বাষ্পাকারে পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে নির্গত হয়।
(v) লুক্কায়িত পত্ররন্ধ্র প্রস্বেদনের হার হ্রাস করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্ভিদের জৈবনিক কাজে হাইডাথোড ও পত্ররন্ধ্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

