"উদ্দীপকের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর: "উদ্দীপকের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ তারা শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক জীবসত্তা বলতে মানবজীবনের বিশৃঙ্খল দিকটিকে বুঝিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে পৌছানোর মই হলো শিক্ষা। আর মানুষ যখন অর্থচিন্তার নিগড়ে বন্দি হয়ে থাকে তখন সে মানবসত্তায় উত্তীর্ণ হতে পারে না। তাই লেখক শিক্ষা ও অন্নবস্ত্রের জোগান দেওয়া উভয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মানুষের দুটি সত্তার কথা বলেছেন-জীবসত্তা ও মানবসত্তা। তাঁর মতে অধিকাংশ মানুষ জীবসত্তাকে টিকিয়ে রাখতে অধিক মনোযোগী। জীবসত্তাকে টিকিয়ে রাখতে তৎপর মানুষ সারাক্ষণ অর্থের পেছনে ছুটে বেড়ায়। ফলে তারা মানবসত্তার ঘরে পৌঁছতে পারে না। কারণ তারা প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আলোকিত নয় বলে তাদের মনুষ্যত্ব অর্জন সম্ভব হয়নি। এ কারণে লেখক শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ব অর্জন এবং এর বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্দীপকের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা এর বাইরের লোক। জীবসত্তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য তারা অর্থলোভী। মানবসেবার জন্য মানবিক বোধ ও মনুষ্যত্ব তৈরি হয়নি তাদের। তারা নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখেছে। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মানুষকে শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ব অর্জনের কথা বলেছেন। উদ্দীপকের স্বার্থপর ব্যক্তিরা লেখকের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি নয়। তারা মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ নয় বলে জনগণের সেবার নামে অর্থ সংগ্রহ করে তা আত্মসাৎ করেছে। এ ধরনের মানুষদের লেখক 'কারারুদ্ধ আহারতৃপ্ত' লোভী মানুষ বলে অভিহিত করেছেন। এ ধরনের মানুষ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন নয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য যে মনুষ্যত্বের জাগরণ তা তারা অনুধাবন করতে পারেনি। আর মনুষ্যত্বের বিকাশ না ঘটলে মানব কল্যাণও সাধিত হয় না। এসব দিক বিচার করে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
SSC বাংলা ১ম পত্র শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব · সৃজনশীল
"উদ্দীপকের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যটি উপলব্ধি …
উদ্দীপক
Rajshahi · 2022
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর