SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
রহমত ও কিসমত একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে উচ্চপদে চাকরি নেয়। রহমত কয়েক বছরের মধ্যেই প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে যায়। কিন্তু কিসমত সচ্ছল জীবনযাপন করলেও অর্থ-বিত্তের পেছনে ছোটেন না, বরং তার সঞ্চয় থেকে গ্রামে দরিদ্র-অসহায় মানুষের জন্য কুটিরশিল্প তৈরির সংস্থা গড়ে তোলেন।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2026
ক
অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও কোনটি বড়ো?
উত্তর
অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়ো।
খ
শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটিকে লেখক শ্রেষ্ঠ দিক বলেছেন কেন?
উত্তর
শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকই শ্রেষ্ঠ দিক। কারণ এই দিক মানুষের মনকে বিকশিত করে, মনুষ্যত্ব অর্জনে সহায়তা করে।
শিক্ষার দুটি দিক- একটি প্রয়োজনের, অন্যটি অপ্রয়োজনের। দ্বিতীয় দিকটি মানুষের মনের দুয়ার উন্মোচিত করে তাকে শেখায় কীভাবে জীবনকে উপভোগ করতে হয়। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমেই মানুষ অনুভূতি ও কল্পনার রস আস্বাদন করতে পারে। তার সুপ্ত মন শিক্ষার স্পর্শ পেয়ে অন্য দশজন সাধারণ ব্যক্তি থেকে পৃথক হয়ে ওঠে। এসব কারণে শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটিই শ্রেষ্ঠ।
গ
উদ্দীপকের রহমতের চরিত্রে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের রহমতের চরিত্রে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের জীবসত্তা বা ক্ষুৎপিপাসাকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মানবজীবনে জীবসত্তার দিককে গুরুত্ব দেওয়ার নেতিবাচক দিক তথা পরিণতি তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, মানুষ যখন অর্থচিন্তাকে প্রাধান্য দেয় তখন সে শিক্ষিত হয়েও অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। ফলে একসময় সে হয়ে পড়ে মনুষ্যত্বহীন। এভাবেই জীবসত্তার অনুসরণ মানুষকে অমানুষ করে ফেলে।
উদ্দীপকের রহমত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে উচ্চপদে চাকরি নেয়। কয়েক বছরের মধ্যেই সে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে যায়। অর্থাৎ এককথায় জীবসত্তার প্রয়োজন মেটাতে রহমত অর্থের আকাঙ্ক্ষায় লোভী হয়ে উঠেছে। এই বিষয়টি 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধেও লেখক তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে জীবসত্তার তাগিদে মানুষ অর্থাস্তার নিগড়ে বন্দি হয়ে পড়ে। এভাবে উদ্দীপকের রহমতের মধ্যে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের জীবসত্তার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের কিসমতের কাজে প্রবন্ধের শিক্ষণীয় দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।”- যুক্তি দাও।
উত্তর
শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে অর্থচিন্তার সমাধান ও মনুষ্যত্বের স্বাদ পাওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যে সমন্বয় থাকায় "উদ্দীপকের কিসমতের কাজে প্রবন্ধের শিক্ষণীয় দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যৌক্তিক।
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত শিক্ষা লাভ করে জ্ঞান অর্জন ও অন্তরের মুক্তির মাধ্যমে মানুষ কীভাবে একজন প্রকৃত মানুষে রূপান্তরিত হতে পারে সেই দিকটি তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, জীবসত্তা ও মানবসত্তা নামে মানুষের দুটি সত্তা আছে। আর জীবসত্তার প্রয়োজনে অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি ও শিক্ষা লাভের মাধ্যমে মানুষ মনুষ্যত্বলোকে প্রবেশ করে।
উদ্দীপকের কিসমত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চপদে চাকরি নেয়। তবে তার মধ্যে অর্থের প্রতি লোভ দেখা যায় না। তিনি শিক্ষা অর্জন করে অর্থ-বিত্তের পিছনে না ছোটে সচ্ছল জীবনযাপন করেছেন। পাশাপাশি তার সঞ্চয় থেকে গ্রামে দরিদ্র-অসহায় মানুষের জন্য কুটিরশিল্প তৈরির সংস্থা গড়ে তোলেন। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধেও লেখক কিসমতের মতো মানুষই প্রত্যাশা করেছেন। যে শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজের অর্থচিন্তা ও মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়ে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হবে।
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মনুষ্যত্ব অর্জনকে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেছেন। তিনি বলেছেন শিক্ষা মানুষকে মুক্তির ও মনুষ্যত্বলোকের সন্ধান দেয়। এক্ষেত্রে তিনি অর্থচিন্তার সমাধান ও মনুষ্যত্ব অর্জন দুটো দিককেই গুরুত্ব দিতে বলেছেন। নতুবা শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। উদ্দীপকের কিসমতের কাজে লেখকের প্রত্যাশাই বাস্তবাযিত হয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো