পৌরনীতির সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক তুলে ধর।
উত্তর: পৌরনীতির সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও নিবিড়। উদ্দীপকের রাশেদার পাঠ্যবিষয় পৌরনীতি এবং তার পাঠ করা অন্য বিষয়টি হলো নীতিশাস্ত্র। পৌরনীতি ও নীতিশাস্ত্র- উভয় শাস্ত্রেরই মূল লক্ষ্য হলো মানবকল্যাণ এবং নাগরিককে আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা। নীতিশাস্ত্র মানুষের ভেতরের নৈতিক পরিবর্তন আনে, আর পৌরনীতি নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ ও অধিকার নিয়ে কাজ করে। আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের জন্য নীতিশাস্ত্রের জ্ঞান প্রয়োজন। কারণ, নাগরিকদের মধ্যে যদি ন্যায়-অন্যায় বোধ না থাকে, তবে সেই রাষ্ট্রে আইনের শাসন কার্যকর করা সম্ভব নয়। আবার পৌরনীতিতে আলোচিত সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নীতিশাস্ত্রের সততা ও আদর্শের প্রয়োজন হয়। পৌরনীতি মূলত নাগরিকের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করে, যার ভিত্তি হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত আইন। অন্যদিকে, নীতিশাস্ত্রের আলোচনার বিষয় হলো মানুষের বিবেক ও নৈতিকতা, যার ভিত্তি হলো মানুষের অন্তরের নীতিবোধ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস-এর মতে, 'নীতিশাস্ত্র ছাড়া পৌরনীতি বা রাজনীতি কল্পনা করা যায় না। কারণ, নৈতিকতাহীন নাগরিক কখনও রাষ্ট্রের মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। আইনের পেছনে যদি নৈতিক সমর্থন না থাকে, তবে নাগরিকরা সেই আইন মানতে আগ্রহী হয় না। পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও নীতিশাস্ত্র একে অপরের পরিপূরক। পৌরনীতি নাগরিককে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে আর নীতিশাস্ত্র তাকে দায়িত্বশীল ও নীতিবান হতে শিক্ষা দেয়। রাশেদার পাঠ্য এই দুটি শাস্ত্র মিলে একজন পূর্ণাঙ্গ ও আদর্শ নাগরিক তৈরি করতে সাহায্য করে।
HSC Civics 1st Paper Chapter 1 : পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · Chapter 1 : পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি · সৃজনশীল
পৌরনীতির সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক তুলে ধর।
উদ্দীপক
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর