HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সাফি একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু বিষয় বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে সে তার বাবার নিকট পরামর্শ চাইল । তিনি তার সন্তানকে সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন এবং নাগরিক অধিকার ভোগ ও কর্তব্য যথাযথ পালনের জন্য নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়কে পাঠ্য হিসেবে নেয়ার পরামর্শ দিলেন। তখন সাফি তার বাবাকে বলল, এ বিষয়ে অনার্স পড়ার তো কোনো সুযোগ নেই। সাফির বাবা বললেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতর একটি বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ আছে।
সিলেট সরকারি কলেজ · 2024
ক
পুরবাসী কাদেরকে বলা হতো?
উত্তর
নগরের অধিবাসীদেরকে পুরবাসী বলা হতো।
খ
“উত্তম নাগরিকতা অর্জনের জন্য পৌরনীতির জ্ঞান আবশ্যক” উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
পৌরনীতিতে নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সকল বিষয় আলোচিত হয় বলে উত্তম নাগরিকতা অর্জনের জন্য পৌরনীতির জ্ঞান আবশ্যক।
নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যেমন— নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের সাথে জড়িত ঘটনাবলি ও কার্যকলাপ এ শাস্ত্রে আলোচিত হয়। নাগরিক জীবনের ধর্মীয়, নৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সার্বিক দিকের আলোচনা পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তু। পৌরনীতি পাঠ করে একজন নাগরিক উল্লিখিত বিষয়সমূহ তথা নাগরিকতার সকল বৈশিষ্ট্য ও করণীয় সম্পর্কে জানতে পারে। যা অনুসরণ করে ঐ নাগরিক উত্তম নাগরিকতা অর্জন করতে পারে।
গ
উদ্দীপকে সাফির বাবা যে বিষয়টি বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তার বিষয়বস্তু ও পরিধি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে সাফির বাবা পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ।
যে শাস্ত্র নাগরিক ও রাষ্ট্রের আচার ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে এবং ব্যক্তির আদর্শ নাগরিক জীবন সম্বন্ধে জ্ঞান দান করে তাকে পৌরনীতি বলে। নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় বলে এ শাস্ত্র পাঠ করে একজন ব্যক্তি সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন করতে পারে। উদ্দীপকে সাফিকে তার বাবা যে বিষয়টি বেছে নিতে পরামর্শ দিয়েছেন, সেটি সুনাগরিকতার গুণাবলি, নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট বিষয়। এ থেকে বোঝা যায়, তিনি পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি নিতে বলেছেন ।
পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি ও বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে দেখা যায়, এটি নাগরিকতার উদ্ভব, বিকাশ, বিবর্তন, সুনাগরিকতা, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। সমাজের মৌলিক প্রতিষ্ঠান যেমন- পরিবার ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যাবলি প্রভৃতি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। এটি নাগরিকের অতীত, বর্তমান এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক নিয়েও আলোচনা করে। পৌরনীতি ও সুশাসন রাজনৈতিক, সাংবিধানিক অগ্রগতি ও বিকাশ সম্পর্কেও আলোচনা করে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, গণতন্ত্র, সরকার, নির্বাচন, জনমত প্রভৃতি বিষয়গুলোও পৌরনীতি ও সুশাসনে আলোচিত হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নাগরিকতা, বিশ্বগ্রাম, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়গুলোও পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়।
ঘ
উদ্দীপকের দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর— বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
'উদ্দীপকের দু'টি বিষয় তথা পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর — বক্তব্যটি যথার্থ ।
'পৌরনীতি ও সুশাসন' এবং 'রাষ্ট্রবিজ্ঞান' সামাজিক বিজ্ঞানের একই শাখার দু'টি অংশ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নাগরিকের রাজনৈতিক সংগঠন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। আবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ, নির্বাচকমণ্ডলী, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি পৌরনীতি ও সুশাসনেও আলোচিত হয়। সুতরাং উভয়ের আলোচ্য বিষয় কার্যত এক ও অভিন্ন ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাফির বাবা তাকে নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ তিনি বিষয়বস্তুগত দিক থেকে বিষয় দুটির মধ্যে সম্পর্কের কথা বলেছেন। পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুগত ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। উভয় শাস্ত্রেই সাধারণ কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়। যেমন— সংবিধান, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকার, প্রশাসন, স্বাধীনতা, আইন, সাম্য, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। তবে পৌরনীতি ও সুশাসন অপেক্ষা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ব্যাপক এবং তার পরিসর দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বস্তুত, পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা বিষয়ক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্র সম্পর্কিত বিজ্ঞান। আর নাগরিক ও রাষ্ট্র একটি অবিচ্ছেদ্য ধারণা। রাষ্ট্রের অন্যতম উপাদান নাগরিক। নাগরিক ছাড়া রাষ্ট্র হতে পারে না। আবার রাষ্ট্র ছাড়া নাগরিকের ধারণা অর্থহীন। এ হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর 1
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো