উপযুক্ত শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণে একটি খুদে গল্প লেখো: দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে এসে গ্রামটাকে কেমন জানি অচেনা মনে হচ্ছে সামির কাছে। ঘন সবুজ বন গাছপালার পরিবর্তে ইট পাথরের বাড়ি, আর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা তিতাস নদীর বুকে ধু-ধু বালুচর। তবে কি গোটা দেশের অবস্থা ldots..
উত্তর: স্বপ্ন ও বাস্তবের সন্ধিক্ষণ দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে এসে গ্রামটাকে কেমন জানি অচেনা মনে হচ্ছে সামির কাছে। ঘন সবুজ বন গাছপালার পরিবর্তে ইট-পাথরের বাড়ি, আর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা তিতাস নদীর বুকে ধু-ধু বালুচর। তবে কি গোটা দেশের অবস্থা আজ এমনই দাঁড়িয়েছে? সামির চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পনেরো বছর আগের চিত্র। যখন সে এই গ্রাম ছেড়ে মরুর দেশে পাড়ি জমিয়েছিল, তখন তিতাস ছিল যৌবনা। ঢেউয়ের কলতান আর মাঝির ভাটিয়ালি গানে মুখরিত থাকত সারা গ্রাম। আজ সেই নদীটি মৃতপ্রায় এক খালে পরিণত হয়েছে। বুক চিরে জেগে ওঠা বালুচরে সবুজের সমারোহ নেই, আছে কেবল শুষ্কতা। সামির মনে পড়ল তার ছোটোবেলার সেই বটগাছটির কথা, যার নিচে বসে সে আর রাহাত কত স্বপ্ন দেখেছিল। আজ সেখানে গড়ে উঠেছে কোলাহলপূর্ণ বাজার। রাহাত আজ কোথায়? হয়তো রাহাতের গল্পটিও এখন অনেকটা ভিন্ন। রাহাতের মনেও একদিন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অদম্য বাসনা ছিল। সেই বাসনা নিয়েই সে একদিন শহরের পথে পাড়ি দিয়েছিল। তার দুচোখে ছিল সোনালি স্বপ্ন- বড়ো কোনো চাকরি করবে, পরিবারের দুঃখ ঘোচাবে। সামির মনে হলো, রাহাত আর তার গন্তব্য হয়তো আলাদা ছিল, কিন্তু দিনশেষে দুজনেই এক বিশাল যান্ত্রিকতার শিকার। একজন মরুর তপ্ত রোদে নিজের জীবনকে পুড়িয়েছে পরিবারের সচ্ছলতার জন্য, আর অন্যজন নিজ দেশের ইটের অরণ্যে হারিয়েছে তার সহজসরল প্রাণবন্ত সত্তাকে। সামির গ্রামের এই পরিবর্তন তাকে বেদনার্ত করে তোলে। সে দেখেছে কীভাবে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক কারখানা। যে বাতাসে একসময় শর্ষে ফুলের ঘ্রাণ লেগে থাকত, আজ সেখানে কালো ধোঁয়া আর যান্ত্রিক কোলাহল। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সামির দেখা হলো তার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মজিদ স্যারের সাথে। বার্ধক্য তাঁকে ছুঁয়েছে, কিন্তু চোখের দৃষ্টি এখনো প্রখর। সামির দীর্ঘশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করল, 'স্যার, আমাদের সেই সাজানো গ্রামটা কোথায় গেল?' স্যার স্মিত হেসে বললেন, 'উন্নয়ন তো হয়েছে রে বাবা, কিন্তু আমরা আমাদের শিকড়টাকে হারিয়ে ফেলেছি। মানুষ এখন ইটের মতো শক্ত হয়ে গেছে, সবুজের মমতা আমাদের আর টানে না।' সামির বুঝল, গোটা দেশের অবস্থা আজ এমনই। উন্নতির শিখরে উঠতে গিয়ে আমরা আমাদের প্রকৃতিকে বিসর্জন দিয়েছি। তিতাস নদীর বালুচর যেন আমাদের হৃদয়ের শুষ্কতারই প্রতীক। সামির পকেটে এখন অনেক টাকা, প্রবাসী হিসেবে তার অনেক সম্মান। কিন্তু নিজের গ্রামে এসে সে নিজেকেই আজ আগন্তুক বলে মনে করছে। সে ভাবল, যে উন্নতির বিনিময়ে নদী মারা যায়, গাছ কাটা পড়ে এবং মানুষের সরলতা হারিয়ে যায়, সেই উন্নতি কি সত্যিই আশীর্বাদ? রাহাত হয়তো শহরের ভিড়ে কোনোমতে টিকে আছে, আর সামির আজ নিজ ভিটায় পরবাসী। দিনের আলো কমে আসতেই তিতাসের সেই ধু-ধু বালুচরে একাকী দাঁড়িয়ে সামির সংকল্প করল- সে আর ফিরে যাবে না। যে সামান্যটুকু সবুজ এখনো টিকে আছে, তা নিয়েই সে কাজ করবে। কারণ মানুষ যদি তার শিকড় ভুলে যায়, তবে দামি দালানও তাকে শান্তি দিতে পারে না। শহরের যান্ত্রিকতায় পিষ্ট রাহাতদের ভিড়ে সামির অন্তত নিজের মাটির মমতাটুকু আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। সে বুঝতে পেরেছে, দেশের এই বদলে যাওয়া চিত্রটি আসলে এক সতর্কবাণী; প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে কোনো জাতি বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
উপযুক্ত শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণে একটি খুদে গল্প লেখো: দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে এসে গ্রামটাকে কেমন জানি অচেনা মনে হচ্ছে সামির কাছে। ঘন সবুজ বন গাছপালার পরিবর্তে ইট পাথরের বাড়ি, আর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা তিতাস নদীর বুকে ধু-ধু বালুচর। তবে কি গোটা দেশের অবস্থা ldots..
উত্তর