জুলাই অভ্যুথান পরবর্তীকালে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, গণতন্ত্রের উত্তরণ ও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ: প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও গণতন্ত্রের উত্তরণ আবরার: আরে! ফারহান নাকি? কেমন আছিস? অনেক দিন পর তোর সাথে এখানে দেখা হলো। ফারহান: এই তো ভালো আছি বন্ধু। তুই কেমন আছিস? জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলো আর আন্দোলনের ঝোড়ো স্মৃতির পর ক্যাম্পাসটা আজ অন্যরকম লাগছে। আবরার: আমিও ভালো আছি। আজ ক্লাসে স্যার জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রাপ্তি ও আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণ নিয়ে অনেক কিছুই বললেন। ফারহান: আসলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার তো অনেক কিছু আছে। আসলেই তো, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রাপ্তি আর চ্যালেঞ্জগুলো এখন বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আবরার: একদম ঠিক। জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি হলো একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান এবং সাধারণ মানুষের 'বাক্-স্বাধীনতা' ফিরে পাওয়া। আমরা এখন অন্তত নির্ভয়ে কথা বলতে পারছি। ফারহান: তুই ঠিক বলেছিস। তবে প্রাপ্তির পাশাপাশি কিছু অপ্রাপ্তি বা চ্যালেঞ্জও কিন্তু বর্তমান। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য আর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অস্থিরতা সাধারণ মানুষকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলছে। আবরার: তোর কথার সাথে আমি একমত। তবে মনে রাখতে হবে, একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে কিছুটা সময় লাগবেই। গণতন্ত্রের উত্তরণ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয় বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার। ফারহান: হ্যাঁ, সাম্প্রতিক বাংলাদেশে আমরা দেখছি বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন আর প্রশাসনের সংস্কারের দাবি উঠছে। তরুণ প্রজন্ম এখন চায় মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আবরার: শুধু কি তাই! জুলাই বিপ্লবে যারা শহিদ হয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের সঠিক মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন এখন আমাদের প্রধান দাবি। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই হবে এই আন্দোলনের প্রকৃত সার্থকতা। ফারহান: একদম ঠিক। তবে আরেকটি জিনিস নিয়ে ভয় পাচ্ছি। 'মব জাস্টিসের' ব্যাপারে তোর মতামত কী? ফারহান: একদম ঠিক। তবে আরেকটি জিনিস নিয়ে ভয় পাচ্ছি। 'মব জাস্টিসের' ব্যাপারে তোর মতামত কী? আবরার: বর্তমানে 'মব জাস্টিস' বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কিন্তু আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটি নেতিবাচক দিক। এটি আমাদের অপ্রাপ্তির খাতাকে বড়ো করতে পারে যদি আমরা এখনই সচেতন না হই। আর আমাদের লক্ষ্য হতে হবে একটি 'অন্তর্ভুক্তিমূলক' গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই এখন বড়ো পরীক্ষা। ফারহান: সত্যি বলতে, অনেক বড়ো বড়ো চ্যালেঞ্জই আমাদের সামনে আছে এখন। আমরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে নেমেছিলাম, তার জন্য আমাদের আরও ধৈর্যশীল ও সচেতন হতে হবে। আবরার: সঠিক বলেছিস। দেশগঠনের এই প্রক্রিয়ায় আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেমকে প্রাধান্য দিতে হবে। ফারহান: চমৎকার বলেছিস বন্ধু। আমার আরও মনে হয় আৰু সাঈদ বা মুগ্ধদের আত্মত্যাগ যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়; সেই দিকে লক্ষ্য রাখা। আবরার: আচ্ছা বন্ধু ভালো থাক। আমার এখন বাড়িতে ফেরার সময় হয়ে গেছে। ফারহান: ঠিক আছে। আগামীকাল ক্লাসে দেখা হবে। আবরার: শুভ সন্ধ্যা।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
জুলাই অভ্যুথান পরবর্তীকালে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, গণতন্ত্রের উত্তরণ ও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।
উত্তর