ডলি ও ডলির মায়ের ক্রয়কৃত শাড়ি দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকে রুমির পরিহিত শাড়ি যা জ্যামিতিক নকশার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা হলো জামদানি। এছাড়া রেশম গুটি থেকে তৈরি বস্ত্রটি হলো রাজশাহী সিল্ক। এ দুটি বস্ত্রেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, নকশা ও তৈরির নিয়মে ভিন্নতা রয়েছে। জামদানি শাড়িকে মসলিনের উত্তরসূরি বলা হয়। মসলিন তৈরির মূল লক্ষণগুলো জামদানিতে বিদ্যমান। অন্যদিকে, সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের জন্য সিল্ক বা রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। মুঘল আমল থেকে রাজশাহীতে রেশম চাষ শুরু হয়। সিল্ক কাপড়ের জন্য একসময় রাজশাহী 'সিল্ক নগরী' নামে পরিচিত ছিল। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি শাড়ি তৈরি করা হয়। উপাদান অনুযায়ী জামদানি শাড়ি দুই প্রকার। যথা: হাফ সিল্ক জামদানি এবং ফুল কটন জামদানি। হাফ সিল্ক এর আড়াআড়ি সুতাগুলো রেশমের আর লম্বালম্বি সুতাগুলো তুলার সুতায় তৈরি। ফুল কটনের জামদানি সম্পূর্ণ তুলার সুতায় তৈরি। জামদানি বিচিত্র নকশার কারণে বিখ্যাত। নকশাগুলোর বিভিন্ন নাম রয়েছে। নকশাভেদে শাড়ির পাড়ের নামও ভিন্ন হয়। সুদূর অতীত থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জামদানি বহুল পরিচিত ও সমাদৃত। শাড়ি ছাড়াও জামদানি নকশা ওড়না, কামিজ, পাঞ্জাবি, চাদর ও দেয়ালসজ্জাতে লক্ষ করা যায়। গুটিপোকা থেকে সিল্কে সুতা তৈরি হয়। এ সুতা আরও প্রক্রিয়াজাত করে বুনন কারখানায় যায়। সেখানেই বিভিন্ন ডিজাইনের সিল্কের পোশাক তৈরি করা হয়। রেশম বা সিল্ক কাপড়ের লাল গরদ শাড়ি, গরদের পাঞ্জাবি, মটকা শাড়ি ছাড়া বাঙালির বিয়ে-পার্বণ কল্পনা করা যেত না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখনও জামদানির চাহিদা রয়েছে। বর্তমান বাজারে জামদানির উচ্চমূল্য ও বিপুল চাহিদার কারণে এই শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। অন্যদিকে শত সংকটে এখনও টিকে আছে রাজশাহী সিল্ক শাড়ি।
HSC Home Science 1st Paper Chapter 11 : বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Home Science 1st Paper · Chapter 11 : বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র · সৃজনশীল
ডলি ও ডলির মায়ের ক্রয়কৃত শাড়ি দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর