যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।
উত্তর: ভাব-সম্প্রসারণ: পৃথিবীতে কোনো জিনিসই তুচ্ছ নয়। প্রতিটি জিনিসই নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে তুচ্ছ বা ফেলনা জিনিসের মধ্যেও থাকতে পারে মাহাত্ম্য বা মূল্যবান কিছু। এ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে প্রতিটি জিনিসকে মূল্যায়ন করা উচিত। আমরা সাধারণ কোনো জিনিসের বাইরের চাকচিক্য বা আকৃতি-প্রকৃতি দেখেই তার মূল্যায়ন করে থাকি। ক্ষুদ্র বস্তু বা অবহেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বস্তুকে আমরা অবলীলায় উপেক্ষা করি। আসলে তা উচিত নয়। অনেক তুচ্ছ, নগণ্য, ক্ষুদ্র ও অবহেলিত বস্তুর মধ্যেও মূল্যবান জিনিস লুকিয়ে থাকে। অসার ছাইকে যতই অবহেলা করা হোক না এর মধ্যেও অমূল্য রত্নরাজি লুকায়িত থাকতে পারে। ঝিনুকের বাইরের সৌন্দর্যের চাইতে ভেতরের মুক্তা মহামূল্যবান। ক্ষুদ্র বীজ তার ভেতরে ধারণ করে অনেক মূল্যবান সম্পদ। তাই বলে বীজ ক্ষুদ্র বলে তুচ্ছ বা অবহেলার নয়। ক্ষুদ্র ঝলুকণা দ্বারাই সৃষ্ট মহাদেশ। বিন্দু বিন্দু জল দিয়েই মহাসাগর। অবহেলিত ধূলি-কাদা মাটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় মূল্যবান বস্তু। তেমনি জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুঃখ-বেদনা, আনন্দ মানুষকে করে মহৎ ও উদার। দীন-দরিদ্র ও গরিব বলে কোনো মানুষকে তাচ্ছিল্য করা উচিত নয়। কারণ এদের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসতে পারে মহৎ ও জ্ঞানী ব্যক্তি। সেই কারণে বাইরের রূপ, আকৃতি-প্রকৃতি ও অবস্থা দেখে কোনো জিনিসের সঠিক মূল্যায়ন করা উচিত নয়। এর জন্যে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, গভীর জীবনবোধ ও জ্ঞান। কথায় বলে- মহৎ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের ছোটখাটো উপদেশবাণী কখনো অবহেলার নয়। এসব বাণীই অনেক সময় জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলে। তাই কোনো তুচ্ছ বস্তুই অবহেলার নয়। বস্তুত বিশ্বজগতে ক্ষুদ্র-বৃহৎ প্রতিটি বস্তুরই কোনো না কোনো অবদান রয়েছে। সঠিকভাবে অনুসন্ধান, বিচার বিশ্লেষণ ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা অনুধাবন করতে পারলে তুচ্ছ ও নগণ্য জিনিসের মধ্যে নিহিত মহামূল্যবান জিনিসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৬ : ভাব-সম্প্রসারণ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৬ : ভাব-সম্প্রসারণ · সৃজনশীল
যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।
উত্তর