উদ্দীপকে জনাব সামাদ সাহেবের ও তার পুত্র লিটনের মূল্যবোধ যথাক্রমে অর্থনৈতিক ও সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধ। পিতা ও পুত্রের মূল্যবোধে যথেষ্ঠ পার্থক্য বিদ্যমান বলে আমি মনে করি। নিম্নে আমার মতামতের সপক্ষে আলোচনা করা হলো-
অর্থনৈতিক মূল্যবোধ অর্থনৈতিক মূল্যবোধ মূলত ব্যক্তির অর্থ সম্পর্কিত আচার-আচরণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং অর্থনৈতিক বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ ধরনের মূল্যবোধের ব্যক্তি তার অর্থ উপার্জন, অর্থ সঞ্চয়, মিতব্যয়িতা ইত্যাদি প্রবণতার মাধ্যমে নিজেকে মানসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। অর্থাৎ ব্যক্তির অর্থনৈতিক মূল্যবোধের দ্বারাই তার ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশা নির্ধারিত হয়। এ মূল্যবোধের প্রভাবে ব্যক্তির আগ্রহ নির্দিষ্ট সম্পদের সঞ্চিতকরণ, সুখ্যাতির সুসজ্জিতকরণ এবং বাস্তব পরিকল্পনার দিকে ধাবিত হয়। এ ধরনের ব্যক্তিরা বাস্তববাদী হয়ে থাকে। এ ধরনের অর্থনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রেই নৈতিক মূল্যবোধ বা রাজনৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করে। এ ধরনের ব্যক্তিরা ধনকুবের হতে চায়।
পক্ষান্তরে, সামাদ সাহেবের পুত্র লিটন সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধে বিশ্বাসী। নান্দনিক/সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধ ব্যক্তিমাত্রই সৌন্দর্যপ্রিয় তথা সুন্দরের পূজারী। নান্দনিক বা সৌন্দর্য মূল্যবোধ হলো ব্যক্তির এমন এক ধরনের বিশ্বাস, যা তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির বা চিন্তাধারায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বা বিচার-বিশ্লেষণ দ্বারা পরিচালিত না হয়ে মূলত তার মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা ও আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিশ্বের সবকিছুর মধ্যে একটি ঐকতান সংবলিত চিন্তাধারার আকার গঠন করে ফেলে। যেখানে ঐক্য সেখানে তারা সুরের লয় খুঁজে পায়। নান্দনিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা মনে করে, একটি বস্তুকে মনোমুগ্ধকররূপে উপস্থাপিত করা, বস্তুটিকে সত্য হিসেবে চিহ্নিত করার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সৌন্দর্যবাদী ব্যক্তি সর্বদা জাঁকজমক, শক্তিমত্তার বিশিষ্ট পরিচয় চিহ্ন বা সম্মানসূচক চিহ্নগুলোকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতে চায়।
উপরোক্ত আলোচনা হতে দেখা যায়, জনাব সামাদ সাহেব মিতব্যয়ী হলেও তার পুত্র জাঁকজমকপূর্ণ ও বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যন্ত। তাই বলা যায় যে তাদের মূল্যবোধের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।