পরিবার ছাড়া মূল্যবোধ গঠনের অন্যান্য মাধ্যমগুলো হলো: বিদ্যালয়, সমবয়সী দল, কমিউনিটি এবং সমাজ ও কৃষ্টি। নিচে এ মাধ্যমগুলো আলোচনা করা হলো-
বিদ্যালয়: মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হলো বিদ্যালয়। শিশুর মৌলিক ব্যক্তিত্ব পরিবারেই গড়ে উঠে। শিশুরা এ মৌলিক ব্যক্তিত্ব নিয়ে বিদ্যালয়ে গমন করে। বিদ্যালয়ে শিশুরা নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলে। ধীরে ধীরে শিশুকে বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। স্বাধীনচেতা মনোভাব, সহযোগিতা, আত্মনির্ভরশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায়নীতি ইত্যাদি শিশুর মধ্যে দেখা যায়।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আচার-আচরণ, চিন্তাধারা, কথা বলার ভঙ্গি ইত্যাদি শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে। শিশুর মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টির ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমবয়সী দল: বিদ্যালয়ে একই শ্রেণির ছাত্র বা পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে একই বয়সী দলকে সমবয়সী দল বলা হয়। সমবয়সীদের প্রশংসা, নিন্দা, সমর্থন সব কিছুর প্রতি শিশুরা অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। সমবয়সী দলের আদর্শমান, শিশুর আচরণকে নির্ধারণ করে থাকে। নিজেদের সম্বন্ধে ধারণা গঠনেও সমবয়সীদের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কমিউনিটি: ব্যক্তির কমিউনিটি বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তার মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে। সে তার পারিপার্শ্বিকতা পরিবেশ থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, সংগীতের প্রতি আকর্ষণ, গুরুজনের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা, সহপাঠীদের প্রতি প্রীতি ভালোবাসা ইত্যাদি মূল্যবোধ গ্রহণ করে থাকে।
সমাজ ও কৃষ্টি: সমাজে গৃহিত মূল্যবোধ সমাজের সদস্যদের মাধ্যমে ব্যক্তির কাছে উপস্থাপিত হয় এবং ব্যক্তি সেগুলো সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জন করে। এভাবেই ব্যক্তির মূল্যবোধ তার সমাজ ও কৃষ্টির দ্বারা নির্ধারিত হয়। এ কারণেই এক একটি সমাজ বা কৃষ্টিতে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়।