জনাব জুনায়েদের মূল্যবোধ গঠনে প্রভাব বিস্তারকারী মাধ্যমগুলো হলো পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমবয়সী দল ।
একটি শিশু পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। সামাজিকীকরণের মাধ্যমে তার মূল্যবোধ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পারিবারিক পরিবেশে ব্যক্তি তার চিন্তা, আবেগ ও কর্মপ্রচেষ্টার রীতিও শেখে। পরিবারের মধ্যেই শিশুর প্রথম মানসিক জগত প্রস্তুত হয়। পিতা-মাতার মধ্যে সম্পর্ক, পরিবারের ধারা, সেখানে কী ধরনের প্রথা ও রীতিনীতি প্রচলিত— এসবের উপর ভিত্তি করে শিশুর জীবনভঙ্গি গড়ে ওঠে। পরিবারের পরই মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হলো বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলা, স্বাধীনচেতা মনোভাব, সহযোগিতা, আত্মনির্ভরশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায়নীতি ইত্যাদি শিক্ষা অর্জন করে। শিক্ষকের আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারা শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে। এছাড়া শিশুর মূল্যবোধ গঠনে সহপাঠীরা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। এখানেই সে ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বগুণ অর্জন করে। অধিকতর আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। সমবয়সী দলের প্রভাবেই শিশুর পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা, সততা, ন্যায়নীতি প্রভৃতির বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের জুনায়েদ একজন আলোকিত মানুষ। তিনি সৎ, নির্ভীক এবং দেশপ্রেমিক। তার মা-বাবা, শিক্ষক ও সহপাঠীরা এ ধরনের ব্যক্তিত্ব গঠনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। অর্থাৎ পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমবয়সী দল এই মাধ্যমগুলো জুনায়েদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের ইচ্ছার একটি বিশেষ মানদণ্ড যার মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। এই মূল্যবোধ গঠনে পরিবার, বিদ্যালয় ও সহপাঠীরা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।