দৃশ্যকল্প-২ এ 'ক' ও 'খ' দ্বারা যথাক্রমে পরিবার ও বিদ্যালয়কে নির্দেশ করা হয়েছে।
শিশু যে পরিবারে বাস করে সেই পরিবারের লক্ষ্য ও ভাবধারার সাথে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িত করে। পরিবারের মধ্যেই শিশুর প্রথম মানসিক জগৎ প্রস্তুত হয়। পরিবারের সদস্যদের আদর-ভালোবাসা, আচার- আচরণ, রীতি-নীতি, বংশ-মর্যাদা, অনুসরণ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে শিশুর স্বাভাবিক মূল্যবোধ, যেমন-সামাজিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশ লাভ করে। ছেলেমেয়েরা মা-বাবাকেই বেশি অনুসরণ করে এবং মূল্যবোধগুলো তাদের জীবনে প্রতিফলিত করে ।
শিশুর মূল্যবোধ গঠনে যে সকল মাধ্যম কার্যকর ভূমিকা পালন করে তার মধ্যে পরিবারের পরই রয়েছে বিদ্যালয়ের অবস্থান। শিশুর শিক্ষার হাতেখড়ি পরিবারে হলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিশু শিক্ষার প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে শিখে। পরিবার থেকে শিশু বিদ্যালয়ে গমন করলে নতুন পরিবেশে শিক্ষক, সহপাঠী, বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন শিশুর মানসিকতার পরিবর্তন করে। ফলে শিশু স্বাধীনচেতা মনোভাব, সহযোগিতা, আত্মনির্ভরশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায়নীতি ইত্যাদি নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করে থাকে। পাশাপাশি বিদ্যালয় ও শিক্ষক শিশুকে বাস্তবজীবনে এসব মূল্যবোধের যথার্থ প্রয়োগের ব্যাপারেও সচেতন করে তোলে ।
পরিশেষে বলা যায়, একটি শিশু পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এবং এখানেই সামাজিকীকরণের মাধ্যমে তার মূল্যবোধ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় । মূল্যবোধ গঠনে বিদ্যালয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর তুলনায় পরিবারের প্রভাব অনেক বেশি ।