উদ্দীপকে রহমান সাহেবের আচরণে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধ, ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে এসব মূল্যবোধের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো—
অর্থনৈতিক মূল্যবোধের ব্যক্তি অর্থনৈতিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এরূপ ব্যক্তিরা সব সময়ই মিতব্যয়ী হয়। উদ্দীপকে রহমান সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি বিশ্বাস করেন জীবনে অর্থের প্রয়োজন আছে। এদিক থেকে বলা যায়, রহমান সাহেবের আচরণে অর্থনৈতিক মূল্যবোধের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সাধারণত ধার্মিক হয়। এ ধরনের মূল্যবোধে ব্যক্তি তার ধর্মীয় রীতি-নীতির একটি বিশেষ প্রতিফলন ঘটায় এবং তার সাথে স্বীয় সুসংহতিকে বিশেষভাবে প্রকাশ করে। উদ্দীপকে বর্ণনায় দেখা যায়, রহমান সাহেব ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলেন । সুতরাং এ বিবেচনায় তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি বলা যায়।
সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধের ব্যক্তিরা জীবনে সৌন্দর্যপিপাসু হয়ে থাকে এবং প্রকৃতির মধ্যে সর্বদা সৌন্দর্য খুঁজে পেতে চায়। এ মূল্যবোধ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা সর্বদা জাঁকজমক শক্তিমত্তা বিশিষ্ট পরিচয় চিহ্ন বা সম্মানসূচক চিহ্নগুলোকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সর্বদা নেতৃত্ব প্রদান করতে চায়। অর্থাৎ এদের মধ্যে প্রভুত্ব বিস্তার করার ইচ্ছা অত্যন্ত প্রবল ও শক্তিশালী। সবার উপরে প্রভাব বিস্তার করা এদের চরিত্রের উল্লেখযোগ্য দিক। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, রহমান সাহেব একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেন যা দেখে সকলেই মুগ্ধ হয়। তার মধ্যে আবার অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার ও প্রতিযোগিতা করার মানসিকতা বিদ্যমান। তার আচরণের এসব বৈশিষ্ট্য লক্ষ করলে দেখা যায় তার মধ্যে সৌন্দর্যবোধ ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়।