দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত মূল্যবোধের মাধ্যমটি হলো বিদ্যালয়। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
গৃহ পরিবেশে অজিত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও মনোভাব নিয়ে শিশু প্রবেশ করে বৃহত্তম সামাজিক পরিমণ্ডলে। এ বৃহত্তর সামাজিক পরিমন্ডলের প্রথম ধাপ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে একটি শিশু মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম হিসেবে পায় তার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সমবয়সীদের। এছাড়াও বয়সে ছোট ও বড় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তার মূল্যবোধ গঠনে কমবেশি প্রভাব বিস্তার করে। একজন ব্যক্তির তাত্ত্বিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সহপাঠীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিশু প্রথম নিজের পরিচিতি খুঁজে পায় নিজের বিদ্যালয়ে এবং সেখানে তার জনমূলক মনোভাব গড়ে উঠে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার নির্দেশ ও উপদেশের মাধ্যমে শিশুর সরাসরি শিক্ষণ হয়। বিদ্যালয়ের অভিপ্রেত আচরণ, শৃঙ্খলা, নিয়মনিষ্ঠতা ইত্যাদি সামাজিক শিক্ষণ শিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। শিশুর প্রতি শিক্ষক-শিক্ষিকার আচরণ পুরস্কার ও শান্তির উৎস। এ পুরস্কার ও শাস্তির মাধ্যমে শিশু আচরণের উপযোগিতা এবং তার যথাযথ ব্যবহার করতে শৈখে। তাই তাদের মাধ্যমে শিশুর তাত্ত্বিক মূল্যবোধ গড়ে উঠে। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের নেতৃত্ব বিষয়ে শিশুর মধ্যে মনোভাব সৃষ্টি হয়। শ্রেণিকক্ষ শিশুর মতামত, মনোভাব, তার রাজনৈতিক, সামাজিক, তাত্ত্বিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। শিক্ষকদের আয়োজিত খেলাধুলা, স্কাউটিং, বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে দলগত আচরণভিত্তিক (সামাজিক মূল্যবোধ), নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মূল্যবোধ), সহযোগিতা (সামাজিক মূল্যবোধ) প্রভৃতি সামাজিক আচরণের বিকাশ লাভ করে।
বিদ্যালয়ের পরিবেশে মূল্যবোধ গঠনে একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হলো সমবয়সী দল। সমবয়সীদের সাথে মেলামেশার প্রেক্ষিতে তার মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক মূল্যবোধ গঠিত হয়। একটি শিশুর মধ্যে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ গঠিত হয় তার বিভিন্ন চাহিদা থেকে। যেমন- শিশু যদি চকলেট খেতে চায়, তবে সে তার বাবা বা মাকে চকলেট কিনে দিতে বলবে এবং সেক্ষেত্রে চকলেট কেনার জন্য টাকার প্রয়োজন হয় এবং তখন থেকেই শিশুটি শিখবে যে, কোনো কিছু ক্রয় করতে টাকার প্রয়োজন হয় এবং এ টাকা উপার্জন করতে হয় এবং এর জন্য কাজ করা প্রয়োজন। এ শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর মধ্যে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ গড়ে উঠে। নিজের সম্পর্কে ধারণা গঠনেও সমবয়সীদের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। যেসব শিশু সমবয়সী দলে উচ্চ মর্যাদা পায় তারা সাধারণত অধিকতর আত্মবিশ্বাসী (মুঠন ও অন্যান্যরা, ১৯৫৬) ও নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন হয়ে থাকে (রীজ, ১৯৬১)। এর ফলে তার মধ্যে তাত্ত্বিক মূল্যবোধ গড়ে উঠে।