উদ্দীপকে মারুফ ও রহিমের মূল্যবোধ যথাক্রমে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক মূল্যবোধ। নিম্নে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক মূল্যবোধের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো—
ধর্মীয় চিন্তা-ধারণা-বিশ্বাস-অনুশাসন এর উপর ভিত্তি করে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ মূল্যবোধ ব্যক্তির এমন এক ধরনের বিশ্বাস, যা তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও সৃষ্টিকর্তা এবং তার সৃষ্টির রহস্য তার চিন্তাধারায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ধরনের মূল্যবোধে ব্যক্তিরা তার ধর্মীয় রীতি-নীতির একটি বিশেষ প্রতিফলন ঘটায় এবং তার সাথে স্বীয় সুসংহতিকে বিশেষভাবে প্রকাশ করে। এ মূল্যবোধের ব্যক্তিরা তাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার-বিশ্লেষণ দ্বারা পরিচালিত হয় । ধার্মিক লোকেরা সাধারণত নিজেকে বর্ণনা করার জন্য এর অন্তর্ভুক্ত ধর্মীয় ধারণাকে হৃদয়ঙ্গম করতে চায় এবং এরা চিরন্তনী আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। এদের মানসিক গঠন সম্পূর্ণভাবে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সৃজনশীলতার দিকে থাকে। এ ধরনের ব্যক্তিরা প্রত্যেক ঘটনার মধ্যেই কিছু না কিছু আধ্যাত্মিক ইঙ্গিত খুঁজে পায় ।
পক্ষান্তরে, অর্থনৈতিক মূল্যবোধ মূলত ব্যক্তির অর্থ সম্পর্কিত আচার- আচরণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং অর্থনৈতিক বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ ধরনের মূল্যবোধে ব্যক্তি তার অর্থ উপার্জন, অর্থ সঞ্চয়, মিতব্যয়িতা ইত্যাদি প্রবণতার মাধ্যমে নিজেকে মানসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে । অর্থাৎ ব্যক্তির অর্থনৈতিক মূল্যবোধের দ্বারাই তার ব্যবসায়-বাণিজ্য বা পৈশা নির্ধারিত হয়। এ মূল্যবোধের প্রভাবে ব্যক্তির আগ্রহ নির্দিষ্ট সম্পদের সঞ্জিতকরণ, সুখ্যাতির সুসজ্জিতকরণ এবং বাস্তব পরিকল্পনার দিকে ধাবিত হয়। এ ধরনের ব্যক্তিরা বাস্তববাদী হয়ে থাকে ।
গবেষণায় দেখা যায়, অর্থ-সম্পদের প্রতি অধিক আগ্রহী এমন মনোভাব পোষণকারী ব্যক্তির অর্থনৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে অর্থ সম্পদের প্রতি কম আগ্রহী এমন মনোভাব পোষণকারী ব্যক্তির অর্থনৈতিক মূল্যবোধের একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এ ধরনের অর্থনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রেই নৈতিক মূল্যবোধ বা রাজনৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করে ।