উদ্দীপকের X চিত্রের ক্রমটি পূর্ণ করলে যে ক্রমটি পাওয়া যায় তা হলো- ডিম→নিম্ফ→ইমাগো যা ঘাসফড়িংয়ের অসম্পূর্ণ রূপান্তরকে নির্দেশ করে। নিচে রেখাচিত্রটি বিশ্লেষণ করা হলো-
ডিম ফুটে যে তরুণ ঘাসফড়িং বেরিয়ে আসে তাকে নিম্ফ (Nymph) বলে। বহিঃর্গঠনের দিক থেকে নিম্ফ এবং পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং দেখতে প্রায় এক রকম, অন্তত মুখোপাঙ্গ, সরলাক্ষি ও পুঞ্জাক্ষি, অ্যান্টিনা, পায়ু প্রভৃতি। অনুরূপভাবে নিম্ফের জীবন ধারণ, খাদ্যভাস, খাদ্য ও বসতিও এক রকম। নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং এ পার্থক্য রয়েছে নিম্ফে ড়ানা ও জননাঙ্গ থাকে না। তাছাড়া দেহের আকার-আকৃতি ছোট থাকে। পূর্ণাঙ্গ হলে ডানা ও জননাঙ্গের পরিস্ফুটন ঘটে। দেহের আকারও বড় হয়। সদ্য পরিস্ফুটিত নিম্ফের কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল থাকে স্বচ্ছ। ক্রমশ গাঢ় হয়, ৩ বার খোলস মোচনের পর পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং-এ রূপান্তরিত হয়, দ্বিতীয় ধাপের নিম্ফে ক্ষুদ্রাকায় ডানা প্যাড থেকে ডানা সৃষ্টির সূচনা ঘটে। প্রতিবার খোলস মোচনের পর নিম্ফ দেখতে ছোট আকৃতির পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং-এর মতো দেখায়। পঞ্চমবার খোলস মোচনের মাধ্যমে নিম্ফ পরিণত ঘাসফড়িং হয়ে উঠে। দুটি মোচনের মধ্যবর্তী দশাকে ইন্সটার বলে। ঘাসফড়িং-এর রূপান্তর সম্পন্ন হতে প্রায় দু'মাস সময় লাগে।