উদ্দীপকে উল্লেখিত শেষ লাইনে যে গঠনটির উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো ঘাসফড়িং-এর হৃৎপিন্ড। নিম্নে ঘাসফড়িং এর হৃৎপিন্ডের গঠন বর্ণনা করা হলো-
ঘাসফড়িংয়ের হিমোসিলের পৃষ্ঠদেশে টার্গামের নিচে সাত প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট হত্যন্ত্র অবস্থিত। এর প্রাচীর পেশিবহুল। এটি দেহের মধ্য-পৃষ্ঠরেখা বরাবর পেরিকার্ডিয়াল সাইনাসে মস্তক হতে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। হৃৎযন্ত্রের প্রতিটি প্রকোষ্ঠ ফানেল সদৃশ্য। এদের পশ্চাৎ অংশ চওড়া এবং সম্মুখ অংশ ক্রমশ সরু। প্রতিটি প্রকোষ্ঠ এর সরু অংশ দ্বারা অগ্রবর্তী প্রকোষ্ঠের চওড়া অংশের সাথে যুক্ত থাকে। সংযুক্ত স্থানের উভয় পার্শ্বে একটি করে অস্টিয়া নামক ছিদ্র থাকে। এসব ছিদ্র দিয়ে রক্ত পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস থেকে হৃৎযন্ত্রে প্রবেশ করে। প্রতিটি প্রকোষ্ঠের সরু প্রান্তের শীর্ষে একটি ছিদ্র থাকে। হৃৎযন্ত্রে সকল প্রকোষ্ঠের ছিদ্রসমূহ অন্তর্বাহী কপাটিকা দ্বারা সুরক্ষিত থাকায় হৃৎযন্ত্রে একমুখী রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত হয়।
হৃৎযন্ত্রের প্রথম প্রকোষ্ঠটির সম্মুখভাগ ক্রমশ সরু হয়ে একটি নলকার অংশ গঠন করে। একে পৃষ্ঠীয় মহাধমনি বলে। এটি মস্তকের সাইনাসে উন্মুক্ত হয়। হত্যন্ত্রের প্রতিটি প্রকোষ্ঠের পার্শ্বভাগে একজোড়া ত্রিভুজাকৃতির পেশি যুক্ত থাকে। এদের অ্যালারি পেশি বলে। এদের মাধ্যমে হৃৎযন্ত্র দেহপ্রাচীরের সাথে যুক্ত থাকে।
অতএব উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ঘাসফড়িং-এর একটি অনন্য হৃৎপিন্ডের গঠন আছে যা বিভিন্ন প্রাণীদের থেকে আলাদা।