উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপান্তরে হরমোনের ভূমিকাটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
ঘাসফড়িং-এর দেহে চার ধরনের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বিদ্যমান। এগুলো হলো ইন্টার-সেরিব্রাল গ্রন্থিকোষ, প্রোথোরাসিক গ্রন্থি, কর্পোরা অ্যালাটা এবং কর্পোরা কার্ডিয়াকা। এদের মধ্যে প্রথম তিনটি গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন ঘাসফড়িং-এর রূপান্তরে মুখ্য ভূমিকা রাখে। রূপান্তরের শুরুতে মস্তিষ্কের ইন্টার সেরিব্রাল গ্রন্থিকোষ থেকে প্রোথোরাসিকোট্রফিক হরমোন ক্ষরিত হয়ে প্রোথোরাসিক গ্রন্থিকে একডাইসন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে। একডাইসন হরমোন ক্ষরিত হলে প্রাণীর নির্মোচন বা খোলস মোচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ হরমোন দেহের কোষকলাকে বৃদ্ধির জন্য উদ্দীপিত করে। একই সময়ে কর্পোরা অ্যালাটা গ্রন্থি থেকে জুভেনাইল হরমোন ক্ষরিত হয় যা দেহের অস্বাভাবিক দ্রুত বৃদ্ধি প্রতিহত করে। প্রকৃতপক্ষে জুভেনাইল হরমোনের প্রভাবে ঘাসফড়িং-এর নিম্ফ দশা দীর্ঘ হয়। এক সময় কর্পোরা অ্যালাটার কার্যক্রম রহিত হয়। একডাইসন হরমোনের প্রভাবে প্রাণীর দ্রুত নির্মোচন ঘটে এবং রূপান্তরের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিণত হয়।
এভাবে হরমোন ঘাসফড়িং-এর শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম, অর্থাৎ, রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।