উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো রুইমাছ। রুইমাছ পানিতে যে প্রক্রিয়ায় শ্বসন সম্পন্ন করে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
চারজোড়া ফুলকা হচ্ছে রুই মাছের প্রধান শ্বসন অঙ্গ । কারণ এগুলোর প্রত্যক্ষ ও প্রধান ভূমিকায় শ্বসন সম্পন্ন হয়। এ অঙ্গই পরিবেশ ও রুইমাছের দেহের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটায়।
রুইমাছের শ্বসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, মাছের গলবিল চোষণ পাম্পের মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে অক্সিজেন সমৃদ্ধ পানি মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে। কানকোর পার্শ্ব সঞ্চালনে চোষণ বলের সৃষ্টি হয় । কানকো দুটি উত্তোলিত হলে, ফুলকা প্রকোষ্ঠের মুখ ব্রাঙ্কিওস্টেগাল ঝিল্লি দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এতে গলবিলে একটি চোষণ বলের সৃষ্টি হয় । ফলে মুখছিদ্র রক্ষাকারী মৌখিক কপাটিকা খুলে যায় এবং পানি মুখের ভেতর দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশ করে। কানকো পেশি-সংকোচনের ফলে নেমে আসলে গলবিল ও মুখগহ্বরে চাপ বেড়ে যায়। সাথে সাথেই মৌখিক কপাটিকা মুখছিদ্রকে বন্ধ করে দেয় এবং ফুলকা-প্রকোষ্ঠের ছিদ্র উন্মুক্ত হয়। পানি তখন এ ছিদ্রপথেই বেরিয়ে যায়। মুখ ও গলবিলের ভেতর দিয়ে অতিক্রমের সময় স্রোতপ্রবাহ নিচে অবস্থিত ফুলকাগুলোকে ভিজিয়ে দেয়। আর তখনই ফুলকাসূত্র ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করেঅতএব দেখা যায় যে, কানকো, গলবিল, মুখগহ্বর ফুলকাগুলোকে প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগে সাহায্য করে এবং ফুলকাই হচ্ছে প্রধান শ্বসন অঙ্গ।।