উদ্দীপকের উল্লিখিত ঘাসফড়িং এর দুই ধরনের প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। উজ্জ্বল আলোতে মোজাইক বা আ্যাপোজিশন প্রতিবিদ্ব এবং অনুজ্জ্বল আলোতে সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব। কিন্তু মানব দেহে ঘাসফড়িং এর অনুরূপ প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয় না। নিচে মানব চোখের সৃষ্ট প্রতিবিম্ব আলোচনা করা হলো:
মানুষের দর্শন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং পাচটি ধাপে সংঘটিত হয়, যথা-
১. চোখে আলোর প্রবেশ
২. রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠন
৩. প্রতিবিম্ব গঠনকারী রশ্মির বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর
৪. প্রতিবিম্ব সম্পর্কে স্নায়ু অনুভূতি মস্তিষ্কে প্রেরণ এবং
৫. মস্তিষ্ক কর্তৃক স্নায়ু অনুভূতির বিশ্লেষণ ও দর্শন।
আমরা যে বস্তুকে দেখি, আলোকিত সে বস্তু থেকে আলোক রশ্মি কর্ণিয়ায় পতিত হয়। স্বচ্ছ কর্ণিয়ায় প্রতিসরিত আলোক রশ্মি পিউপিলের মাধ্যমে লেন্সে পতিত হয়। দ্বিউত্তল লেন্স এই আলোক রশ্মিকে পুনরায় প্রয়োজনমত প্রতিসরণের মাধ্যমে রেটিনায় প্রতিফলিত করে। ফলে রেটিনার উপর বস্তুর একটি উল্টাপ্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। রেটিনায় সৃষ্ট প্রতিবিম্ব রেটিনার আলোক সংবেদী কোষ, (রডকোষ ও কোণকোষ)-কে, উদ্দীপ্ত করে। আলোক সংবেদী কোষের এ অনুভূতি বাইপোলার কোষ, গ্যাংগ্লিওন কোষ এবং অপটিক স্লায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের অপটিক লোবের দৃষ্টি কেন্দ্রে বা ভিসুয়্যাল কর্টেক্সে পৌছায়। এ অঞ্চলে স্নায়ু অনুভূতি থেকে প্রাপ্ত উল্টা প্রতিবিম্বের তথ্য বিশ্লেষণ হয় ফলে মানুষ বস্তুটিকে সোজা দেখতে পায়।
আলোকরশ্মি 🡪 কর্ণিয়া 🡪 অ্যাকুয়াস হিউমার 🡪 পিউপিল 🡪 লেন্স 🡪 ভিট্রিয়াস হিউমার 🡪রেটিনা।