উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো ভ্রুনীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া। ভ্রুনীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়াটি শিশু প্রাণীর পুনরুৎপত্তির সহায়ক নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
পরিস্ফুটন: যেসব ক্রমান্বিত পরিবর্তনের মাধ্যমে জাইগেট থেকে শিশু প্রাণের উৎপত্তি ঘটে তাকে পরিস্ফুটন বলে। জাইগেট নানা ধরনের পরিস্ফুটন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হাইড্রাই পরিনত হয়।
হাইড্রার পরিস্ফুটনকালে নিম্নোক্ত পর্যায় সমূহ দেখা যায়:
১. মরুলা: জাইগোট মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বরাবর বিভাজিত হয়ে বহুকোষী নিরেট ও গোলাকার কোষপিন্ডে পরিণত হয় তাকে মরুলা বলে।
২. ব্লাস্টুলা: শীঘ্রই মরুলার কোষ গুলো একস্তরের সজ্জিত হয়ে একটি ফাঁপা, গোলাকার ভ্রুনে পরিণত হয়। এর নাম ব্লাস্টুলা।
৩. গ্যাস্টুলা: ব্লাস্টুলা গ্যাস্ট্রলেশন পদ্ধতিতে দ্বিস্তর বিশিষ্ট গ্যাস্টুলায় পরিণত হয়। এটি এক্টোডার্ম ও আদি সিলেন্টেরন নিয়ে গঠিত। মাতৃ দেহের সাথে সংযুক্ত এ গ্যাস্টুলাকে স্টোরিওগ্যাস্টুলা বলে। গ্যাস্টুলার চারদিকে একটি কাইটিননির্মিত কাটাযুক্ত সিস্ট আবরণী গঠিত হয়। সিস্টবদ্ধ ভ্রুনটি মাতৃ হাইড্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জলাশয়ের তলদেশে চলে যায়।
৪. হাইড্রুলা: বসন্তের শুরুতে অনুকূল তাপমাত্রায় সিস্টের মধ্যেই ভ্রুণটি ক্রমশ লম্বা হতে থাকে। এবং এর অগ্রপ্রান্তে হাইপ্রোস্টাম; মুখ ছিদ্র ও কর্ষিকা এবং পশ্চাৎ প্রান্তে পদ-চাকতি গঠিত হয়। ভ্রুনের এই দশাকে হাইড্রুলা বলে।