উদ্দীপকে উল্লিখিত হাইড্রার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজ হলো শিকার ধরা, পরিপাক, প্রতিরক্ষা, সংবেদন গ্রহণ ইত্যাদি। এগুলো বিভিন্ন কোষের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে। উচ্চ শ্রেণির প্রাণী প্রকৃত কলায় গঠিত। বিভিন্ন তন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণীর পরিপাক, শ্বসন, রেচন ইত্যাদি। এগুলো সংঘটিত হয়। কিন্তু হাইড্রার মতো নিম্ন শ্রেণির বহুকোষী প্রাণী প্রকৃত কলা গঠিত হয় না। সুগঠিত তন্ত্রও তৈরি হয় না। তাই এদের দেহের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজ কোষীয় শ্রমবন্টনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। হাইড্রার বিভিন্ন ধরনের কোষ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ করে থাকে। পেশি-আবরণী কোষ দেহের সাধারণ আবরণ তৈরি করে। এরা মুখছিদ্র খোলা ও বন্ধ করতে স্ফিংকটারের ন্যায় কাজ করে। পেশি-আবরণী কোষের ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোষ সিলেন্টেরনে পানি স্রোত সৃষ্টি করে খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শ্বসন ও রেচনে সহায়তা করে। এছাড়া এটি সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে চলন, শিকার ধরার কাজে অংশগ্রহণ করে। নিডোসাইট কোষ শিকার ধরা, চলন ও আত্মরক্ষার কাজ সম্পাদন করে। ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ মুকুল ও জননাঙ্গ সৃষ্টি করে এবং দেহের প্রয়োজনে সব ধরনের কোষ সৃষ্টি করে। সংবেদী ও স্নায়ুকোষ পরিবেশ হতে সংবেদন গ্রহণ ও উদ্দীপনা দ্বারা প্রতিবেদন সৃষ্টি করে। পুষ্টিকোষ খাদ্য পরিপাক করে। গ্রন্থিকোষ এনজাইম ও আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে কোনো স্থানে অবস্থান ও চলনে ভূমিকা রাখে। খাদ্য গলাধঃকরণ ও বহিঃকোষীয় পরিপাকেও এদের গুরুত্ব রয়েছে। জননকোষ প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তারে সাহায্য করে।
কাজেই প্রকৃত কলাতন্ত্র গঠিত না হলেও Hydra-র যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজ শ্রমবণ্টনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।