উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ শ্বসন অঙ্গটি হলো ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়ালতন্ত্র। শ্বাসরন্দ্র, ট্রাকিয়া, ট্রাকিওল ও বায়ুথলির সমন্বয়ে ট্রাকিয়ালতন্ত্র গঠিত হয়। নিচে ট্রাকিয়ালতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:
ঘাসফড়িংয়ের দেহে দুটি বক্ষীয় ও আটটি উদরীয় খন্ডকের প্রতি পার্শ্বে একজোড়া করে মোট দশ জোড়া শ্বাসরন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি শ্বাসরন্দ্রে বিশেষ ধরনের পেশি নিয়ন্ত্রিত কপাটিকা বায়ুর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিটি শ্বাসরন্দ্র অ্যাট্রিয়াম নামক একটি ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে উন্মুক্ত হয়। এখান থেকেই উৎপন্ন হয় সূক্ষ্ম শাখা-প্রশাখা যুক্ত ও স্থিতিস্থাপক ট্রাকিয়া বা বায়ুনালি, যা ঘাসফড়িংয়ের সারাদেহে জালিকাকারে বিস্তৃত থাকে। ট্রাকিয়ার সূক্ষ্মতম শাখা যা সরাসরি দেহকোষের সাথে যুক্ত হয় তা হলো ট্রাকিওল। এগুলো এককোষী নালিকা। এদের প্রাচীর ইন্টিমা ও টিনিডিয়াবিহীন। কিন্তু এগুলোর অভ্যন্তর টিস্যুরসে পূর্ণ থাকে। এই ট্রাকিওল রস গ্যাসীয় আদান প্রদানে সহায়তা করে। ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়া সুষম প্রাচীরযুক্ত থলের ন্যায় বায়ুথলিতে সম্প্রসারিত হয়। এসব থলিতে বাতাস জমা থাকে এবং শ্বসনের সময় বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।