উদ্দীপকে উল্লিখিত চক্রটি হলো C4 চক্র। C4 চক্র সম্পন্ন হয় C4 উদ্ভিদে। অন্যদিকে C3 উদ্ভিদে 3PGA উৎপন্ন হয়। তাই এটা স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে C3 উদ্ভিদের সাথে C4 উদ্ভিদের বৈসাদৃশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। C₃ উদ্ভিদ ও C4 উদ্ভিদের মধ্যে নিম্নলিখিত বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়-
C3 উদ্ভিদ উচ্চ তাপমাত্রায় খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম নয় কিন্তু C4 উদ্ভিদ উচ্চ তাপমাত্রায় খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। গঠনগতভাবে C₃ উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্ট একই রকম হলেও C₄ উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্ট দুই রকম। গ্রানাযুক্ত মেসোফিল ক্লোরোপ্লাস্ট এবং গ্রানাবিহীন বান্ডলসীথ ক্লোরোপ্লাস্ট। C3 উদ্ভিদের পাতার বান্ডল সীথ ঘিরে মেসোফিল কোষের কোনো পৃথক স্তর থাকে না কিন্তু C4 উদ্ভিদের পাতার বান্ডল সীথ ঘিরে অরীয়ভাবে সজ্জিত মেসোফিল কোষের ঘন স্তর থাকে। C₃ উদ্ভিদে কেবল মেসোফিল কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, বান্ডল সীথ কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না। কিন্তু C4 উদ্ভিদের মেসোফিল ও বান্ডল সীথ কোষ উভয় স্থানেই ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। C₃ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সালোকসংশ্লেষণের জন্য বায়ুমণ্ডলে CO₂ এর ঘনত্ব কমপক্ষে ৫০ ppm হলেও C4 উদ্ভিদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ০.১০ ppm। আবার, C3 উদ্ভিদের মেসোফিল কোষে আলোক বিক্রিয়া এবং ক্যালভিন চক্র সম্পন্ন। কিন্তু C4 উদ্ভিদের মেসোফিল কোষে আলোক বিক্রিয়া এবং বান্ডলসীথ কোষে CO₂ সৃষ্টি ও ক্যালভিন চক্র সম্পন্ন হয়।