উদ্দীপকে উল্লিখিত ৬-কার্বনবিশিষ্ট শর্করা হতে সবাত শ্বসন এবং অবাত শ্বসন এই দুটি প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয়। প্রক্রিয়া দুটিতে শক্তি ও দ্রব্য উৎপাদন মাত্রা ভিন্ন হয়। কারণ-
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি ধাপে সংঘটিত হয়। প্রথম ধাপে কোষের সাইটোপ্লাজমে ৬-কার্বনবিশিষ্ট প্রতি অণু গ্লুকোজ ভাগ হয়ে ৩-কার্বনবিশিষ্ট দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড ও ২টি ATP উৎপন্ন হয়। দ্বিতীয় ধাপে পাইরুভিক অ্যাসিড সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে তিন অণু CO₂ ও H₂O এবং ২টি ATP উৎপন্ন করে। এই পর্যায়ের অধিকাংশ বিক্রিয়া চক্রাকারে আবর্তিত হয়। একে বলা হয় ক্রেবস চক্র। তৃতীয় ধাপে গ্লাইকোলাইসিস ও ক্রেবস চক্রে উৎপন্ন NADH + H+ FADH₂ হতে ইলেকট্রন অক্সিজেন-এ স্থানান্তরিত হয়। সবশেষে ইলেকট্রনের এই স্থানান্তরকালে H₂O উৎপন্ন হয়। এ পর্যায়কে বলা হয়, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় মোট ৩৮ অণু ATP উৎপন্ন হয়।
অপরদিকে, অবাত শ্বসনে কম শক্তি উৎপন্ন হয় কারণ এতে অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে না। অবাত শ্বসন দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। অবাত শ্বসনেরও প্রথম ধাপ হলো গ্লাইকোলাইসিস। এটি সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস ধাপের অনুরূপ। এ ধাপে এক অণু গ্লুকোজ থেকে ২ অণু পাইরুভিক এসিড, ২ অণু NADH + H+ ও ২ অণু ATP উৎপন্ন হয়। দ্বিতীয় ধাপে পাইরুভিক অ্যাসিড অসম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে ইথানল ও CO₂ অথবা শুধু ল্যাকটিক অ্যাসিড সৃষ্টি করে। এসব জৈব যৌগে শক্তি সঞ্চিত থাকে। অক্সিজেন না থাকার কারণে এসব যৌগ ভেঙে সরল যৌগে পরিণত হতে পারে না। যার কারণে রাসায়নিক শক্তি বা গতিশক্তি কম উৎপন্ন হয়। উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসন প্রক্রিয়া দুটিতে শক্তি ও দ্রব্য উৎপাদন মাত্রা ভিন্ন হয়।