উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-১ ও চিত্র-২ দ্বারা পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নির্দেশ করেছে। পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া অর্থাৎ কোষের আকৃতিগত ভিন্নতার কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো পত্ররন্ধ্র। পত্ররন্ধ্র সংলগ্ন রক্ষীকোষদ্বয়ের প্রাচীর বেশ পুরু, কিন্তু বহিঃস্থ প্রাচীর বেশ পাতলা হয় এবং এদের একটি বড় নিউক্লিয়াস এবং কিছু ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। রক্ষীকোষ দুটির স্ফীতি অথবা শিথিল অবস্থা পত্ররন্ধ্র খোলা বা বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কারণে রক্ষীকোষে অন্তঃঅভিস্রবণ ও বহি:অভিস্রবণ ঘটে। অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে রক্ষীকোষে দুটি সহকারী কোষ থেকে পানি শোষণ করে যখন স্ফীত হয়, তখন পাতলা প্রাচীরের দিকের অতিরিক্ত চারে টানে পুরু প্রাচীরটি কিছুটা বাঁকা হয়ে গিয়ে রন্ধ্র উন্মুক্ত হয়ে যায়। আবার বহিঃঅভিস্রবণের ফলে যখন রক্ষীকোষ থেকে পানি বেরিয়ে যায় তখন পাতলা প্রাচীর শিথিল হয়ে যায় এবং পুরু প্রাচীর আবার আগের অবস্থানে ফিরে গিয়ে রন্দ্র বন্ধ করে ফেলে। কাজেই দেখা যায়, পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন এবং তার স্ফীত হওয়া ও শিথিল হওয়ার উপর নির্ভরশীল। এছাড়া দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয় এবং রাত্রিবেলায় অন্ধকারে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়। আলো, তাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি রক্ষীকোষ দুটির স্ফীত ও শিথিল হওয়াকেও নিয়ন্ত্রণ করে।