উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। আর এ প্রক্রিয়ায় নির্গত গ্যাস হলো অক্সিজেন গ্যাস।
সবুজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, এক অণু গ্লুকোজ তৈরি হওয়ার মাধ্যমে ৬ অণু O₂ নির্গত হয়। বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে CO₂ ও H₂O। অতএব, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের দুটি উৎস হতে পারে- একটি হলো CO₂ এবং H2O।
সালোকসংশ্লেষণে যে O2 নির্গত হয় তা H₂O হতে আসে, CO₂ হতে নয়, অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস হলো পানি।
পরীক্ষাগুলো নিম্নরূপ :
রবিন হিল CO2 এর অনুপস্থিতিতে পৃথককৃত ক্লোরোপ্লাস্ট, পানি ও কিছু অজৈব জারক তথা হাইড্রোজেন গ্রাহক (hydrogen acceptor) একত্রে আলোতে রাখেন। পরীক্ষা শেষে দেখা যায় CO₂-এর অনুপস্থিতিতে কোনো শর্করা তৈরি হয় না, কিন্তু অক্সিজেন। নির্গত হয়। হিলের এ পরীক্ষা হতে প্রমাণিত হয় যে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উষ্ণ। হলো পানি, সেই বিক্রিয়াটিই হলো হিল বিক্রিয়া।
2A(অজৈব জারক)+2H2O→ 2AH2 + O2↑
ভ্যান নীল সালোকসংশ্লেষণকারী সালফার ব্যাক্টেরিয়ার ক্ষেত্রে দেখান যে সালফার ব্যাক্টেরিয়া পানির পরিবর্তে H₂S গ্যাস ও CO₂ ব্যবহার করে শর্করা ও পানি উৎপন্ন করে। কিন্তু সেখানে কোলে অক্সিজেন নির্গত হয় না। তবে সালফার অণু নির্গত হয়। কাজেই এখানেও পরোক্ষভাবে প্রমাণিত হয় যে, সালোকসংশ্লেষয়ে নির্গত অক্সিজেনের উৎস পানি,CO₂ নয়।
2H2S + CO2 → 2S + (CH2O) + H2O
রুবেন ও কামেন তেজস্ক্রিয় O১৪ (অক্সিজেনের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ) দ্বারা পানির অক্সিজেনকে চিহ্নিত করেন এবং ঐ পানিতে কতগুলো শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ রেখে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার ফলাফল লক্ষ্য করেন।দেখা গেল যে, নির্গত অক্সিজেন তেজস্ক্রিয়। এতে নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হলো যে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গর অক্সিজেনের উৎস পানি। একই পদ্ধতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এর অক্সিজেনকে ₂18 দ্বারা চিহ্নিত করেন এবং স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করে একই পরীক্ষা করা হলো।
এবার দেখা গেল যে, শর্করা ও পানিতে তেজস্ক্রিয় অক্সিজেন বিদ্যমান। কিন্তু সালোকসংশ্লেষণের ফলে নির্গত অক্সিজেন মোটেও তেজস্ক্রিয় নয়। কাজেই এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলো যে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎসই পানি। এর সামান্যতম অংশও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে আসে না।