উদ্দীপকের B উদ্ভিদ গ্রুপ অর্থাৎ ইক্ষু ও মুথাঘাস হ্যাচ-স্ল্যাক চক্র (C-4 চক্র) ব্যবহার করে বলে এর উৎপাদিত শক্তি A উদ্ভিদ গ্রুপ অর্থাৎ ধান ও কাঠাল কেল্ভিন চক্র (C-3 চক্র) তুলনায় বেশি।
যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রথম উৎপন্ন স্থায়ী যৌগ ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড উৎপন্ন হয় তাকে C4 সালোকসংশ্লেষণ বা C4-চক্র বলে। কোন উদ্ভিদেই শুধু C3-চক্রের মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ ঘটেনা। এদের পাতায় C4-চক্রও পাশাপাশি কার্যকর থাকে।
পাতার মেসোফিল কোষ এবং বান্ডলসীথ কোষ সম্মিলিতভাবে এই গতিপথ সম্পন্ন করে । হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে দুটি পর্যায়ে কার্বোক্সিলেশন বিক্রিয়া ঘটে। একটি ঘটে মেসোফিল কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে এবং অপরটি ঘটে বান্ডলসীথের ক্লোরোপ্লাস্টে ।C4 উদ্ভিদে অধিক তাপমাত্রায় (30° – 45°) সালোকসংশ্লেষণ সংঘটিত হতে পারে। C4 উদ্ভিদের CO2 গ্রাহক ফসফোইনল পাইরুভিক অ্যাসিড C3উদ্ভিদের CO2 গ্রাহক রাইবুলোজ ১.৫ বিসফসফেট অপেক্ষা অধিক কার্যকর। C4 উদ্ভিদে ফটোরেসপিরেশন ও প্রস্বেদন কম হয় বলে CO2 বিজারণ বেশি হয়।
অন্যদিকে, সবুজ উদ্ভিদে C-3, চক্র তথা ক্যালভিন চক্র চলাকালে পরিবেশে তীব্র আলো ও উচ্চ তাপমাত্রা সী হলে ফটোসিনথেসিস না হয়ে ফটোরেসপিরেশন ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্টে CO, এর পরিমাণ কম এবং O2; এর পরিমাণ বেশি হলেই ফটোরেসপিরেশন হয়। তীব্র আলো ও অধিক তাপমাত্রায় (৩০ সে. এর উপর) গাছে পানি সংরক্ষণের জন্য পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পাতার অভ্যন্তরে CO2, গ্যাস সীমিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় RuBP, CO2 এর পরিবর্তে এর সাথে বিক্রিয়া করে ২ কার্বনবিশিষ্ট গ্লাইকোলেট তৈরি করে। গ্লাইকোলেট ক্লোরোপ্লাস্ট ত্যাগ সাইটোপ্লাজম-এ এসে পারঅক্সিসোম- এ প্রবেশ করে। পারঅক্সিসোমে প্রবেশ করে গ্লাইকোলেট 02 সাথে বিক্রিয়া করে কিছু দ্রব্য তৈরি করে যা মাইটোকন্ড্রিয়াতে প্রবেশ করে এবং বিক্রিয়া শেষে CO2 ত্যাগ করে।
বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে, উচ্চ তাপমাত্রা, উচ্চ আলো, এবং বায়ুমণ্ডলে বর্তমান CO2 ঘনত্বের অধীনে, হ্যাচ-স্ল্যাক চক্রের (C4) উৎপাদিত শক্তির কেল্ভিন চক্রের (C3) সালোকসংশ্লেষণের চেয়ে বেশি দক্ষ কারণ এটি প্রধান CO2 ফিক্সেটিং এনজাইম রুবিস্কোর চারপাশে CO2 ঘনত্ব বাড়ায় বলে হ্যাচ- স্ল্যাক চক্রের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি।