উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের ডান হাতের গাছটি হলো ইক্ষু। ইক্ষু উদ্ভিদে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র বা C4 চক্র সম্পন্ন হয়।
অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী M.D. Hatch ও C.R. Slack আখের উপর গবেষণায় দেখতে পান যে, অন্ধকার দশায় রাইবুলোজ বিসফসফেটের পরিবর্তে ফসফোইনোল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEPA) নামক তিন কার্বন বিশিষ্ট যৌগের সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড যুক্ত হয়ে অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA) নামক ৪-কার্বন বিশিষ্ট পদার্থ উৎপন্ন হয়। PEP- কার্বোক্সিলেজ এনজাইম এ বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে বলে অক্সিজেন যুক্ত হতে পারে না। কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে অনেক কম হলেও এদের সালোকসংশ্লেষণ চলতে থাকে। এ ধরনের উদ্ভিদে অন্ধকার পর্যায়ে প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৪-কার্বন বিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড। তাই এমন উদ্ভিদকে C4 উদ্ভিদ বলে এবং এমন চক্রকে C4 চক্র বলে। এ চক্রের প্রথম স্থায়ী যৌগ অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিডে (OAA) দুটি কার্বোক্সিল গ্রুপ (COOH) থাকায় এ চক্রটি ডাই কার্বোক্সিলিক চক্র নামেও পরিচিত। যেমন- ভূট্টা, আখ, বাজরা, কাউন, চিনা, গিনি ঘাস, ডাটা, মুথাঘাস প্রভৃতি। এদের মেসোফিল কোষে RuBP এনজাইম নিষ্ক্রিয় থাকলেও বান্ডল সিথ ক্লোরোপ্লাস্টে সক্রিয় থাকে।