উদ্দীপকে বর্ণিত প্রক্রিয়াটি হলো কৃত্রিম সংকরায়ন প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াটি অর্থনীতি ও বিবর্তনে যেভাবে ভূমিকা রাখে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো : কৃত্রিম সংকরায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করেছে ইরি-৮ ধান। এর ফলে কৃষক একর প্রতি ফলন পায় ৯০ - ১০০ মণ। বর্তমানে কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে রোগ প্রতিরোধী জাত। যেমন— ধানের ক্ষেত্রে BRRI উদ্ভাবিত জাত BR- 10 (মুক্তা), BR 14 (গাজী), BR- 15 (মোহিনী), BR-16 (শাহী বালাম) ইত্যাদি। কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল জাত। যেমন- নেরিকা ধান খরা সহিষ্ণু, BRRI dhan 51 বন্যাসহিষ্ণু, BRRI dhan 53 লবণ সহিষ্ণু, BRRI dhan 36 শীত সহিষ্ণু, BRS BRO শিলা সহিষ্ণু জাত। তাই বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বন্যা সহিষ্ণু জাত, উত্তরাখলে খরা সহিষ্ণু জাত, দক্ষিণাঞলে লবণসহিষ্ণু জাত ব্যবহার করে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে পারে। কৃষকের জন্য অভিশাপ মঙ্গা প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে BRRI dhan 48 উদ্ভাবনের ফলে। কারণ এটিতে অন্যান্য জাতের আগেই ফলন আসে, অর্থাৎ ঘরের খাবার ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই কৃষক নতুন ফলন পায়। কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বীজহীন কলা, আঙুর, লেবু, আপেল, তরমুজ ইত্যাদি ফল। যার কারণে কৃষক বর্তমান বাজার চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত স্বাবলম্বী হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষ খাদ্যের জন্য ধানের উপর নির্ভরশীল । কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশনের সফল প্রয়োগের ফলে ধানের মোট উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ।