উদ্দীপকে প্রদর্শিত জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াটি হলো- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় লিমিটিং ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো- আমরা জানি, যদি একটি প্রক্রিয়া একাধিক ফ্যাক্টর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে সবচেয়ে ধীর গতিসম্পন্ন ফ্যাক্টর দ্বারাই প্রক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রিত হবে। কম মাত্রার এই প্রভাবকটিকেই Blackman লিমিটিং ফ্যাক্টর নামে অভিহিত করেছেন। লিমিটিং ফ্যাক্টরের নীতি অনুযায়ী, যেকোনো নির্দিষ্ট সময়ে শুধুমাত্র একটি ফ্যাক্টর দ্বারা সালোকসংশ্লেষণের হার । নিয়ন্ত্রিত হয়। সালোকসংশ্লেষণের হার ঐ নির্দিষ্ট ফ্যাক্টরের সমানুপাতিক। অর্থাৎ ফ্যাক্টরের পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বাড়বে। কিন্তু এই ফ্যাক্টরের পরিমাণ অপটিমাম মান থেকে অনেক বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হারের ওপর এর প্রভাব হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং এর স্থলে অন্য একটি ফ্যাক্টর সালোকসংশ্লেষণের হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন-
১. 30°-35° সে. তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি। অতএব 30°-35° সে. সালোকসংশ্লেষণের অপটিমাম (পরিমিত) তাপমাত্রা। তাপমাত্রা 0° সে. থেকে ধীরে ধীরে উচ্চতর তাপমাত্রায় উন্নীত করলে এই প্রক্রিয়ার হার সাথে সাথে বাড়তে থাকে এবং 30°-35° সে. তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি হয়। 35° সে. তাপমাত্রার উপরে তাপমাত্রা বাড়ানো হলে সালোকসংশ্লেষণের হার হঠাৎ এবং দ্রুত কমে যায়।
২. যদি কোনো বিশেষ আলোর তীব্রতায় একটি সজীব পাতা সালোকসংশ্লেষণে প্রতি ঘণ্টায় 35 ml CO2, গ্রহণ করতে পারে এবং এ অবস্থায় যদি 5ml - 35ml পর্যন্ত CO2 এর পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায় তাহলে দেখা যাবে, সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। ঐ একই আলোর তীব্রতায় CO2 এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করলে সালোকসংশ্লেষণের হারের বৃদ্ধি ঘটবে না এবং একটা নির্দিষ্ট হারে পৌঁছে স্থির হয়ে যাবে। এ অবস্থায় আলোর তীব্রতা Limiting factor হিসেবে কাজ করে।
এভাবেই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলো, তাপমাত্রা ও CO2, লিমিটিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।