উদ্দীপকে দ্বিতীয় উদ্ভিদ দুটি হলো ভুট্টা ও ইক্ষু অর্থাৎ C4 উদ্ভিদ এবং প্রথম দুটি উদ্ভিদ হলো আম, কাঁঠাল যা C3 উদ্ভিদ ।এদের কার্বন আত্তীকরণ অর্থাৎ কার্বন বিজারণ পথ ভিন্ন।
কার্বন বিজারণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রত্যক্ষ আলোর প্রয়োজন পড়ে না,তাই একে আলোক নিরপেক্ষ অধ্যয়ও বলা হয়।কার্বন বিজারনের বিক্রিয়াসমূহ ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে হয়।কার্বন বিজারণ গতিপথ তিনটি।যথা- C3, C4 ও CAM প্রক্রিয়া।
বায়ুমণ্ডলের CO2 পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। কোষে অবস্থিত ৫-কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ-১, ৫-ডাইফসফেটের সঙ্গে CO2 মিলিত হয়ে ৬- কার্বনবিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড তৈরি হয়।এটি সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে তিন কার্বনবিশিষ্ট দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3PGA) উৎপন্ন করে। কাজেই এই চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ তিন কার্বনবিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড। তাই শর্করা উৎপাদনের ক্যালভিন চক্রকে C3 গতিপথ বলা হয়। আর যেসব উদ্ভিদে C3 চক্র ঘটে তাদের C3 উদ্ভিদ বলা হয়।আম, জাম, কাঁঠাল,কলা ইত্যাদিতে C3 চক্র ঘটে। হ্যাচ ও স্ল্যাক এর মতে,ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড সালোকসংশ্লেষের প্রথম স্থায়ী উৎপাদিত যৌগ নয়। এই পদ্ধতিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফসফোইনোল পাইরুভিক অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সালো এসিটিক অ্যাসিডে (OAA) পরিণত হয় ও OAA থেকে ম্যালেট এবং ম্যালিক অ্যাসিড পাইরুভেটে পরিবর্তিত হয়। ইহা একটি চক্রাকার প্রক্রিয়াতে ঘটে। ইহাকে C4 চক্র বলা হয়।যে সমস্ত উদ্ভিদ C4 চক্র মেনে চলে তাদেরC4 উদ্ভিদ বলে।প্যাপিরাস,আখ,ভুট্টা, মিলেট ইত্যাদিতে C4 চক্র ঘটে।
সুতরাং বলা যায় যে, প্রথম ও দ্বিতীয় উদ্ভিদ অর্থাৎ ভুট্টা ও আম এবং কাঁঠাল উদ্ভিদের কার্বন আত্তীকরণ পথ ভিন্ন ।