ঔষধ শিল্পে ২য় প্রক্রিয়াটি ব্যাপক ভূমিকা রাখে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ঔষধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে রোগ নিরাময়ে নতুন এবং কার্যকরী চিকিৎসা উদ্ভাবনে। নিচে ঔষধ শিল্পে রিকম্বিনেন্ট প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা ব্যাখ্যা করা হলো- ১. বর্তমানে জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর ভ্যাকসিন উৎপাদন করা হচ্ছে যা গুটি বসন্ত, জলাতঙ্ক, কলেরা, যক্ষ্মা, মাম্পস, হাম, হেপাটাইটিস-বি প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ২. জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন রকমের অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ উৎপাদন করা হচ্ছে। যেমন- Penicillium notatum নামক ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন ঔষধ প্রস্তুত করা হয়। এছাড়া আরো কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে Cephalosporin, Amoxicillin, Streptomycin, Tetracyclin ইত্যাদি ঔষধ উল্লেখযোগ্য। ৩. বর্তমানে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে ইনসুলিন তৈরি করা হচ্ছে। এটি মানুষের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় কিংবা অন্য কোনো হরমোনের অভাবজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। ৪. রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারফেরন উৎপাদন করা হচ্ছে যা প্রধানত ভাইরাস প্রতিরোধে এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
HSC Biology 1st Paper Chapter 11: জীবপ্রযুক্তি CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 11: জীবপ্রযুক্তি · সৃজনশীল
ঔষধ শিল্পে ২য় প্রক্রিয়াটি ব্যাপক ভূমিকা রাখে ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা · 2025
উত্তর
উত্তর

উত্তর
১। মাতৃউদ্ভিদ বা এক্সপ্লান্ট নির্বাচন (Maternal or implant selection): টিস্যু কালচারের জন্য সুস্থ,নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উদ্ভিদ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত টিস্যুকে এক্সপ্লান্ট (explant) বলে।
২। কালচার মিডিয়াম বা আবাদ মাধ্যম তৈরি (Creating culture medium): বিভিন্ন ধরনের মুখ্য ও গৌণ উপাদান (macro and micro elements), ভিটামিন, সুকরোজ (২-৪%), ফাইটোহরমোন প্রভৃতি এ মিডিয়ামে থাকা প্রয়োজন।
৩। জীবাণুমুক্তকরণ বা নির্বীজকরণ (Disinfection or sterilization): পাত্রটিকে নির্বীজকরণ যন্ত্র (autoclave) দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। মিডিয়ামকে অটোক্লেভ যন্ত্রে নির্দিষ্ট তাপ (১২১° সে.), চাপ (১৫ পাউন্ড) ও সময় (২০ মিনিট) রাখা হয়।
৪। মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট বা টিস্যু স্থাপন (Place the implant or tissue in the medium): এক্সপ্লান্টকে নির্বীজ করে (সাথে হাত, চিমটা ইত্যাদিকে অ্যালকোহল দিয়ে নির্বীজ করতে হয়) সম্পূর্ণ নির্বীজ অবস্থায় কাচপাত্রে রাখা মিডিয়ামে স্থাপন করা হয়।
৫। ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যাবৃদ্ধি (Callus creation and multiplication): পাত্রটিকে একটি বৈদ্যুতিক আলো (৩,০০০-৫,০০০ লাক্স), তাপমাত্রা (১৭°-২০° সে.) ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা (৭০-৭৫%) নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখা হয়। কয়েকদিন পর টিস্যুটি বার বার বিভাজিত হয়ে একটি কোষীয় মণ্ডে পরিণত হয়। যে অবয়বহীন অবিন্যস্ত টিস্যুগুচ্ছ সৃষ্টি হয় তাই ক্যালাস। ক্যালাস থেকে এক সময় অসংখ্য মুকুল সৃষ্টি হয়।
৭। চারা টবে স্থানান্তর (Transfer seedlings tubs): উপযুক্ত সংখ্যক সুগঠিত মূল সৃষ্টি হলে পূর্ণাঙ্গ চারাগাছ কালচার করা পাত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে ধীর প্রক্রিয়ায় সাবধানতার সাথে টবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারাগাছ উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
৬ । মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর ও চারা উৎপাদন (Transfer and seedling production through the main producer): মুকুলগুলোকে সাবধানে কেটে নিয়ে মূল উৎপাদনকারী মিডিয়ামে রাখা হয় এবং সেখানে প্রতিটি মুকুল, মূল সৃষ্টি করে পূর্ণাঙ্গ চারাগাছে পরিণত হয়।
৮। প্রাকৃতিক পরিবেশে তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর (Transfer level): টবসহ চারাগাছকে কিছুটা আর্দ্র পরিবেশে রাখা হয়, তবে রোপিত চারাগাছগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। পূর্ণাঙ্গ চারাগাছগুলো সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।উত্তর