HSCBiology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক

Dinajpur · 2017
ক
পার্থেনোজেনেসিস কী?
উত্তর
নিষেক ক্রিয়া ছাড়া ডিম্বাণু হতে ভ্রূণ তৈরির প্রক্রিয়াই হলো পার্থেনোজেনেসিস।
খ
জিনোম সিকোয়েন্সিং বলতে কী বোঝ?
উত্তর
DNA অণুর অনুদৈর্ঘ্যে ATGC বেসগুলো কোন অনুক্রমে সজ্জিত থাকে তা উদঘাটন করাই হলো জিনোম সিকোয়েন্সিং। এটি আধুনিক জীবপ্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবন রহস্য উদঘাটন করেছেন। এতে নতুন ও উন্নত প্রজাতির রোগমুক্ত পাট উৎপাদন করা সহজ হবে।
গ
উদ্দীপকের চিত্র-Y থেকে চিত্র-Z তৈরির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র Y অর্থাৎ পরাগরেণু থেকে চিত্র Z অর্থাৎ পুংগ্যামিট তৈরির প্রক্রিয়াটি নিম্নে বর্ণনা করা হলো-
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস তৈরি করে। বড়টিকে বলা হয় নালিকা নিউক্লিয়াস এবং ছোটটিকে বলা হয় জনন নিউক্লিয়াস। পরাগায়নের ফলে পরাগরেণু স্ত্রীকেশরের গর্ভমুণ্ডে পতিত হয় এবং অঙ্কুরিত হয় অর্থাৎ ইনটাইন বৃদ্ধি পেয়ে জার্মপোর দিয়ে নালিকার আকার বাড়তে থাকে। এ নালিকাকে পোলেন টিউব বলে। পোলেন টিউবের ভিতরে নালিকা নিউক্লিয়াস এবং পরে জনন নিউক্লিয়াস প্রবেশ করে। নালিকাটি গর্ভদণ্ডের ভেতর ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং গর্ভাশয়ের ভিতরে ডিম্বকরন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছায়। ইতোমধ্যে জনন নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি পুংগ্যামিট সৃষ্টি করে।
ঘ
উদ্দীপকের M এবং N প্রক্রিয়ার মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে কোনটি উপযুক্ত? কারণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত M ও N প্রক্রিয়াটি হলো যথাক্রমে নিষেক প্রক্রিয়া ও টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। এদের মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে নিষেক ক্রিয়া অধিক উপযুক্ত। নিম্নে উপযুক্ত কারণসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে বীজ উৎপাদন করা যায় না। ফুল, শস্য বা ফল উৎপাদনকারী কোনো ভালো জাতের উদ্ভিদের টিস্যু নিয়ে কালচার করে অনেক সংখ্যক চারাগাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয়। তাছাড়া টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে উৎপন্ন চারাগুলো হুবহু মাতৃউদ্ভিদের গুণসম্পন্ন হয়ে থাকে, তাই নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে না।
অপরদিকে নিষেক ক্রিয়ায় স্ত্রীগ্যামিটের সাথে পুংগ্যামিটের মিলন অর্থাৎ যৌন জনন ঘটে। কাজেই নিষেকক্রিয়ার ফলে দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমে একটি ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট থেকে ভূণের সৃষ্টি হয়। নিষেকক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রজাতিতে জিনের সংমিশ্রণ *ঘটে। এ প্রক্রিয়ায় রিকম্বিনেশনের মাধ্যমে জেনেটিক ডাইভার্সিটি তৈরি হয়। জেনেটিক ডাইভার্সিটির কারণে উদ্ভিদের নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে সুবিধা হয়। নিষেকের মাধ্যমেই বীজ ও ফলের সৃষ্টি হয়। বীজ উদ্ভিদের বংশ রক্ষা করে। বীজ সৃষ্টি না হলে অধিকাংশ পুষ্পক উদ্ভিদই হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যেতো। আমরা বিভিন্ন বৈচিত্র্যের যে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, বেল, পেঁপে, বার্লি, ভূট্টা ইত্যাদি যা খেয়ে থাকি তা সবই নিষেকক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, উদ্ভিদের বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে নিষেক ক্রিয়াই অধিক উপযুক্ত।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো


