উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রযুক্তিটি হলো রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির অর্জন মানুষের বেঁচে থাকার বিভিন্ন খাত যেমন- কৃষি, চিকিৎসা, পশুপালনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে লাইনটি মূল্যায়ন করা হলো-
১. চিকিৎসাক্ষেত্রে: চিকিৎসাক্ষেত্রে এ পদ্ধতির একটি উল্লেখযোগ্য অবদান হলো ক্লোনকৃত জিন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েক প্রকার প্রোটিন তৈরি। এসব প্রোটিন জটিল রোগ নিরাময়ে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে তৈরি ইন্টারফেরন মানুষের দেহকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করছে। হিমোফিলিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণে ও নানা রকম রোগের কবল থেকে রক্ষা পেতে নানা ধরনের Vaccine (ভ্যাক্সিন) উৎপাদনে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাছাড়াও এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বংশগত, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থায়, জিন থেরাপী এবং গ্রোথ হরমোন তৈরি সম্ভব হচ্ছে। গ্রোথ হরমোনের দরুন মানুষ বামনত্ব থেকে মুক্তি লাভ করছে।
২. কৃষিশিল্পে: রিকম্বিনেন্ট DNA পদ্ধতি প্রয়োগ করে অধিক খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি পচনরোধী ফসল উদ্ভাবন করায় কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে না। এছাড়া এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে N₂ সংবন্ধনকারী ফল ও রোগ প্রতিরোধী জাত, লবণাক্ততা সহনশীল উদ্ভিদ এবং কীট প্রতিরোধক জাত সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে সুপার রাইস, ভিটামিন সমৃদ্ধ ভুট্টা, প্রোটিন সমৃদ্ধ সয়াবিন নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধী ট্রান্সজেনিক সবজি উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে।
৩. মলিকুলার ফার্মিং: ট্রান্সজেনিক প্রাণী উদ্ভাবনের মাধ্যমে তাদের বায়ো-রিঅ্যাক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রাণী থেকে প্রাপ্ত দুধ, রক্ত ও মলমূত্র থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ আরোহণ করা হয়ে থাকে।
৪. বায়োফার্মিং: ফার্মাসিউটিক্যাল দ্রব্য বড়োমাত্রায় উৎপাদন করাকে বায়োফার্মিং বলে। অতি অল্প খরচে ছাগলের মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী Antithrombin উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া GMO ছাগলের দুধ থেকে শক্তিশালী Spider silk উৎপাদন করা হচ্ছে।