উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র "Q" দ্বারা টিস্যু কালচার প্রযুক্তিকে নির্দেশ | করা হয়েছে। নিচে টিস্যু কালচারের ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো-
১। এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: সঠিক এক্সপ্লান্ট নির্বাচন টিস্যু কালচারের জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাস্থ্যবান, নিরোগ ও ভাইরাসমুক্ত অর্থাৎ উৎকৃষ্ট জার্ম প্লাজমবিশিষ্ট উদ্ভিদ থেকেই এক্সপ্লান্ট নির্বাচন করতে হয়। পর্ব বা পর্বমধ্যকে এক্সপ্লান্ট হিসেবে ব্যবহার করার জন্য পূর্বমধ্যের কিছু টিস্যুসহ পর্ব কেটে নেওয়া হয় ।
২। কালচার মিডিয়াম বা পুষ্টি মাধ্যম: টিস্যু কালচারের জন্য কোন একক প্রকৃতির কালচার মিডিয়াম নেই। প্রত্যেক উদ্ভিদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন উপাদানসম্পন্ন কালচার মিডিয়াম প্রয়োজন হয়। তবে সবক্ষেত্রেই একটি মৌলিক পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন পড়ে। এ মৌলিক পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ কালচার মিডিয়ামকে ক্যাসাল মিডিয়াম বলে। এ মিডিয়া তৈরিতে যে সব রাসায়নিক উপাদান এর প্রয়োজন হয় সেগুলো হলো: (ক) উপাদান, (খ) জৈব পুষ্টি উপাদান, (গ) বৃদ্ধি হরমোন ও (ঘ) অ্যাগার অ্যাগার।
৩। জীবাণু মুক্তকরণ বা নির্জীবকরণঃ পুষ্টি উপাদানে জীবাণু জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে, অণুজীবের জন্য তা খুবই উপাদেয় হওয়ায় সেখানে কালচার মিডিয়ামকে নষ্ট করে দেয়। দ্রবণসহ কাচপাত্রটি নির্বীজকরণ যন্ত্রের সাহায্যে নির্বীত করা হয়। সেখান থেকে সুবিধামত পাত্রে ঢেলে নিয়ে পাত্রগুলো তখন কক্ষ তাপমাত্রায় (২০) সে.) রেখে দিলে মিডিয়াম জেলির মত জমাট বাধে।
৪। মিডিয়ামের এক্সপ্লান্ট বা টিস্যু স্থানান্তর: এক্সপ্লান্ট একটি বাফার দ্রবণে রেখে বিভিন্ন নির্বীজকণ রাসায়নিক ধবনে নির্বীজ করে নিতে হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় চিমটা ডুরি, কাঁচি এমনকি হাত এবং যে বিশেষ স্থানে স্থানান্তর কাজ সম্পন্ন হবে সে স্থানটিও! ইমাইল আলকোহল দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এরপর এক্সপ্লান্টকে কাঁচ পাত্রে জামাটবাঁধা পুষ্টি উপাদানের উপর বাসিয়ে দেয়া হয়।
৫ । ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যাবৃদ্ধি: এক্সপ্লান্ট স্থানান্তরের পর পাত্রটি বৈদ্যুতিক আলো (৩,০০০-৫,০০০ লাক্স)
ও তাপমাত্রা (১৭-২০° সে.) নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রেখে দিলে কয়েকদিনের মধ্যে এক্সপ্লান্ট আস্তে আস্তে কালোসে রূপান্তরিত হবে। ক্যাপাস থেকে এক সময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চারা বের হতে শুরু করবে।
৬.ক্ষুদ্র চারা থেকে পূর্ণাঙ্গ চারা সৃষ্টি। মুলবিহীন ক্ষুদ্র চারাগুলো সাবধানে কেটে নিয়ে এমন কিছু কালচার মিডিয়ামে স্থানান্তর করতে হয় যেখানে এদের প্রত্যেকলিত মূল ও কান্ড সৃষ্টি হয়ে একেকটি ক্ষুদ্র চারা উদ্ভিদে পরিস্ফুটিত হবে। এসব কাজ তখনও আলো-তাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নির্বীজ অবস্থায় সম্পন্ন করা হয়।
৭। চারা উদ্ভিদ স্থানান্তরকরণ: ক্ষুদ্র চারা থেকে সৃষ্ট চারা উদ্ভিদগুলো যখন পূর্ণাঙ্গ চারায় পরিণত হয় তখন তাছোট ছোট মাটিভরা পাত্র বা টবে সাবধানে স্থানান্তর করা হয়।
৮। প্রাকৃতিক পরিবেশে তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর: টবসহ চারা উদ্ভিদকে কিছুটা আর্দ্র পরিবেশে রাখা হয়, তবে রোপিত চারা উদ্ভিদগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইে নিতে হয়। পূর্ণাঙ্গ চারা উদ্ভিদগুলো সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়। এভাবেই টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা উদ্ভিদ উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করা হয়।