উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-Y দ্বারা অণুজীব ব্যাকটেরিয়াকে বোঝানো হয়েছে এবং "O" অংশটি হলো প্লাসমিড। প্লাসমিড হলো ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব ক্রোমোজোম বহির্ভূত বৃত্তাকার DNA অণু যা জৈব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-,
জৈবপ্রযুক্তি হলো সাধারণতভাবে বিভিন্ন জীবের; বিশেষ করে অণুজীব ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বস্তু উৎপাদনের প্রযুক্তি। এই প্রক্রিয়ায় প্লাসমিড ভেক্টর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।প্লাসমিড ব্যবহার করে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি দ্বারা ওষুধ শিল্পে। ইনসুলিন, ইন্টারফেরন, সোমাটোস্ট্যাটিনসহ অসংখ্য চিকিৎসা উপকরণ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। আবার এ প্লাসমিড ব্যবহার করে বায়োফার্মিং-এর মাধ্যমে অন্য উদ্ভিদ বা প্রাণিদেহে জিন স্থানান্তর করে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় শর্করা, প্রোটিন, অ্যালকালয়েড, হরমোন, এনজাইম, এন্টিজেন ও এন্টিবডি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে এ DNA টেকনোলজি প্রক্রিয়ার ভিটামিন এ সমৃদ্ধ সুপার রাইস আবিষ্কারসম্ভব হয়েছে ফলে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়েরা ভিটামিন 'এ' এর অভাবে আর অন্ধ হবে না এবং মায়েরা রক্তশূন্যতাজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে রেহাই পাবে। অন্যদিকে এ প্লাসমিড ব্যবহার করে নানা ধরনের প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য টিকা বা ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে মানুষের জীবনকাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি মানবকল্যাণে অপরিসীম অবদান রাখছে যেখানে প্লাসমিড একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।