উদ্দীপকে উল্লেখিত "M" ও "N" প্রক্রিয়া দুটি হলো যথাক্রমে টিস্যু কালচার প্রযুক্তি এবং রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। নতুন জাত উদ্ভাবনে প্রক্রিয়া দুটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
টিস্যু কালচারের ভূমিকা:
১. দ্রুত গুণগতমান সম্পন্ন জাত তৈরি: একই গুণসম্পন্ন অনেক গাছ অল্প সময়ে তৈরি হয়।
২. রোগমুক্ত নতুন জাত উদ্ভাবন: মেরিস্টেম কালচারের মাধ্যমে রোগমুক্ত গাছ উৎপাদন সম্ভব।
৩. দুর্লভ বা বিলুপ্ত প্রায় জাত সংরক্ষণ: টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রায় জাতকে সংরক্ষণ করে নতুনভাবে ব্যবহার করা যায়।
৪. জিনতাত্ত্বিক একরূপতা: কৃত্রিমভাবে সব চারা একই বৈশিষ্ট্যের হয়, যা নতুন জাত তৈরিতে সাহায্য করে।
জিন প্রযুক্তির ভূমিকা:
১. চাহিদা অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য যুক্তকরণ: যেমন- শুষ্কতা সহ্য করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি
২. ট্রান্সজেনিক ফসল তৈরি: অন্য জীবের জিন এনে নতুন জাত উদ্ভাবন করা (যেমন: Bt Brinjal বা বিটি বেগুন)।
৩. উচ্চ ফলনশীল জাত তৈরি: উন্নত জিন সন্নিবেশ করে আধক ফলনশীল জাত তৈরি করা যায়।
৪. রোগ ও কীট প্রতিরোধী জাত: পোকামাকড় বা ভাইরাস প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে সহায়তা করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, নতুন জাত উদ্ভাবনে টিস্যু কালচার উদ্ভিদের গুণগত সংরক্ষণ ও দ্রুত বংশ বিস্তারে সাহায্য করে, আর জিন প্রযুক্তি উদ্ভিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য উন্নত করে। তাই এই দুটি প্রযুক্তি একত্রে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।