উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রযুক্তি Y হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং তথা রিকম্বিনেন্ট DNA.
কৃষিক্ষেত্রে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যেমন-
১) Bacillus thuringiensis নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে একটি জিন যোগ করার মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক তুলা গাছ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়াও তামাক, টমেটো, পেঁপে, ভূট্টা, রাই, সূর্যমুখী, তুলা, নাশপাতি, গম, আঙ্গুর ইত্যাদি ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
২) আগাছা নিধনকারী পদার্থ সহনশীল উদ্ভিদ তৈরি করা হয়েছে।
৩) রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধমে সূর্যমুখীর সালফার তৈরি কারী জিন সমৃদ্ধ ক্লোভার ঘাস উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।
৪) রিকম্বিনেন্ট DNA এর মাধ্যমে ভিটামিন A সমৃদ্ধ সুপার রাইস বা গোল্ডেন রাইস চাষ শুরু হয়েছে।
৫) ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও নানা ধরনের কীট-পতঙ্গ প্রতিরোধক্ষম জাত উদ্ভাবনে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির ফলে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পেঁপের রিংস্পট প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
৬) বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া হতে 'নিফ জিন' E. coli ব্যাকটেরিয়াতে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে।নিফ জিনবাহী ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার জমিতে নাইট্রোজেন ঘটিত সার প্রয়োগ কমাতে বা একেবারে বন্ধ করতে পারবে। ফলে ফসলের উৎপাদন খরচ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ রোধ হবে।
৭) বীজহীন ফল সৃষ্টিতে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে সারা বিশ্বের অনেক দেশে বীজহীন ফল সৃষ্টি করা হচ্ছে।
৮) এর মাধ্যমে লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত সৃষ্টি করা হয়েছে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং তথা রিকম্বনেন্ট DNA কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।